ইরানে ভারতের বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ক প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ২৫ মে ২০১৬, ২০:৪৬
ইরানের ছাবাহার বন্দর উন্নয়নের জন্য তেহরানের সঙ্গে নয়াদিল্লির চুক্তি করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছে, বিষয়টি তারা গভীরভাবে নজরে রাখছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইরান সফরকালে সোমবার ওই বন্দরের উন্নয়নে ৫০ কোটি ডলার প্রদানের ঘোষণা দেন। এর লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবসা প্রসারের জন্য নতুন এ পথ কাজে লাগানো। খবর- আনন্দবাজার ও এনডিটিভির।
 
ইরানের সঙ্গে ভারতের এ নতুন চুক্তি হতেই যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ছাবাহার ঘোষণাপত্রের সবক’টি শর্ত তারা খতিয়ে দেখছেন। মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটে প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, এর মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি এসে যায়। এ নিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দিশাই বলেছেন, আমাদের কাছে এটা খুবই স্পষ্ট যে, ইরানের সীমাবদ্ধ কার্যক্রমের সঙ্গে ভারত সম্পৃক্ত হচ্ছে।
 
নিশা দিশাই বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে, ভারতের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে। অন্য কোন বিষয়কে (সামরিক) কেন্দ্র করে নয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অর্থনৈতিক চাহিদাকে কখনোই অন্যভাবে দেখে না। ভারতের দিক থেকে যদি বিবেচনা করা যায়, তাহলে দেখা যাচ্ছে নয়াদিল্লি আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্যে প্রবেশের পথ খুঁজছে। তাই ইরানের সঙ্গে ভারতের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোন উদ্বেগের কারণ নয়।
 
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাবাহার বন্দরের ক্ষেত্রে ভারতের আগ্রহের পিছনে কয়েকটি কারণ সামনে এসে যায়। তা হলো: প্রথমত, পাকিস্তানের গোয়াদরে চীন যে বন্দর তৈরি করছে, তার পাল্টা প্রস্তুতি হিসাবে ভারতকেও মধ্য এশিয়ার কোথাও বন্দর গড়তে হবে। দ্বিতীয়ত, আফগানিস্তানের পুনর্গঠনের জন্য ভারত সে দেশে যে পণ্য ও সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে, তা পাকিস্তানের মধ্যে দিয়ে পাঠানোই সুবিধাজনক। কিন্তু পাকিস্তান রাস্তা দিতে রাজি নয়। তাই ইরান হয়েই পণ্য ও সরঞ্জাম পাঠাতে হচ্ছে। তৃতীয়ত, ছাবাহার বন্দরের মাধ্যমে ইরান এবং মধ্য এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা ও লেনদেন অনেক বাড়াতে পারবে ভারত।