শেয়ার বাজারে ব্যাপক দরপতনের শুরু ২০১০ সালে। ২০১৬ সালে এসেও দরপতনের বৃত্তেই আটকে আছে পুঁজিবাজার। আট হাজারের সূচক (ডিজেন) নেমে এসেছে সাড়ে চার হাজারেরও নিচে (ডিএসইএক্স)। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন নেমে এসেছে সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকায়। এই সময়ে কিছু কোম্পানির শেয়ার দর ৮০/৯০ টাকা থেকে ৮/৯ টাকায়ও নেমে এসেছে। এতে অনেকেই বিনিয়োগ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অনেকেই বিনিয়োগ হারানোর ধাক্কা সইতে না পেরে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন। গতকাল আরো এক বিনিয়োগকারী শেয়ার লোকসান করায় আত্মহত্যা করেছেন। এ নিয়ে সাতজন বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা করলেন।
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাবই দেখা যায়নি। অন্তত ৭০টি কোম্পানির শেয়ার দর ফেসভ্যালুরও (গায়ের দর) নিচে নেমে এসেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার পুঁজিবাজারের জন্য নানা পদক্ষেপ নিলেও যারা বাজারের এই অবস্থার জন্য দায়ী তাদের এখনো বিচার হয়নি। ব্যাংকগুলোও বাজার থেকে তাদের বিনিয়োগ গুটিয়ে নিয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতেই রয়ে গেছে।
এদিকে গতকাল শেয়ারবাজারে লোকসানের কারণে মহিউদ্দিন শাহারিয়ার (৩৫) নামে এক বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন তার ভগ্নিপতি আরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, জমি বিক্রি করে শেয়ার ব্যবসা শুরু করার পর ২০১০ সালে মহিউদ্দিন প্রায় ১২ লাখ টাকা লোকসানে পড়ে। পরবর্তীতে এই লোকসান আরো বাড়ে। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এর আগেও শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারী ছয়জন আত্মহত্যা করেন।
