কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর ডিএনএ প্রতিবেদন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত বোর্ডের প্রধান কামদা প্রসাদ সাহা এ কথা বলেন।
এদিকে তনু হত্যাকাণ্ডের ৬৭ দিন এবং দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের পর ৫৮ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি। ঘাতকদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করা যায়নি। মামলার তদন্তেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এসব কারণে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশায় ভুগছেন তনুর বাবা-মা ও স্বজনরা।
গত ১৬ এপ্রিল ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন চেয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমের কাছে চিঠি পাঠান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। ওই চিঠির জবাবে গত ২১ এপ্রিল পাল্টা চিঠি দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আদালতের নির্দেশ ছাড়া ডিএনএ প্রতিবেদন সরবরাহ করা সম্ভব নয়। সর্বশেষ গত ১৯ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামদা প্রসাদ সাহাকে একটি চিঠি দেন।
ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে সোহাগী জাহান তনুর মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার রিপোর্ট যথাযথভাবে সংগ্রহ করে সঠিকভাবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রদান করার জন্য আপনার সদয় মর্জি হয়।’ এ বিষয়ে ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, ‘সিআইডির চিঠি পাওয়ার পর আমরা (মেডিকেল বোর্ড) গত ২১ মে ঢাকায় ফরেনসিক মেডিসিন সোসাইটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে ২৪ মে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছি। ওই বৈঠকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের পরামর্শ নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আদালত ডিএনএ প্রতিবেদন দিলে দ্রুত আমরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেব।’
ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, ‘সিআইডি বলছে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ করে যথাযথভাবে প্রতিবেদন দিতে, কিন্তু ডিএনএ প্রতিবেদন না দিলে কীভাবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেব’।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তিনি আদালতের অনুমতি ছাড়া আইনগতভাবে কোনো প্রতিবেদন কারো নিকট হস্তান্তর করতে পারেন না।
সূত্র জানায়, তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন নিয়ে সিআইডি ও মেডিকেল বোর্ডের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬টি চিঠি চালাচালি হলেও গতকাল বিকাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিল হয়নি।
