ব্যাংকিং খাতে অংশগ্রহণ বাড়ছে

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ২০:০০

 

দিন দিন ব্যাংকের চাকরিতে নারী কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে পুরুষের তুলনায় নারীদের অংশও বাড়ছে। এখন যারা চাকরিতে আসছেন এমন ব্যাংকারদের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি রয়েছেন নারী। এক সময় তা  ১০ শতাংশেরও কম ছিল। অন্যদিকে নারী কর্মীদের চাকরি বদলের প্রবণতা কিংবা চাকরি ছেড়ে দেয়ার প্রবণতাও আগের চেয়ে কমেছে। ব্যাংক খাতের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের লিঙ্গ সমতাবিষয়ক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড বাদে দেশে কার্যরত অন্য ৫৬টি তফসিলি ব্যাংকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকগুলোতে জনবলের সংখ্যা এক লাখ ৬৮ হাজার ১৯২। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাবে দেখা গেছে, এর মধ্যে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা এক লাখ ৪৩ হাজার ২০১ জন। আর নারী কর্মীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৯৯১ জন। সে হিসাবে ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মী প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর রয়েছেন ১৭ শতাংশ।

বিশ্বে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য বিষয়ে প্রতিবছর দ্যা গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম। বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছিল শীর্ষে। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৮ সালে বিশ্বের ১৪৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৪৮তম। প্রতিবেদনটি বলছে, এমনটা সম্ভব হয়েছে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে। প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি অনুকূল কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা ও প্রতিষ্ঠানের সর্বক্ষেত্রে লৈঙ্গিক সমতা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানসমূহের লৈঙ্গিক সমতা বিষয়ক সূচক পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালের পহেলা ডিসেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোতে ৩০ বছরের কম বয়সী যেসব কর্মী রয়েছেন তাদের মধ্যে ২০ দশমিক ২৩ শতাংশ নারী। ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কর্মীদের মধ্যে নারীর হার ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এ হার ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর সূচনা পর্যায়ে নারী কর্মী রয়েছেন ১৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মধ্যবর্তী পর্যায়ে আছেন ১৪ দশমিক  ৩৯ শতাংশ। আর উচ্চ পর্যায়ে রয়েছেন ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকে কর্মরত মোট নারী কর্মীদের মধ্যে ২০১৮ সালের শেষ ছয় মাসে ৩ দশমিক ২০ শতাংশ চাকরি বদল করেছেন। চাকরি বদলের ঘটনা আগের মতোই সবচেয়ে বেশি ঘটেছে বিদেশি ব্যাংকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যাংক খাতের মোট পরিচালকদের ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ নারী। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী পরিচালক রয়েছেন রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এসব ব্যাংকের পরিচালকদের ২০ দশমিক ৬৯ শতাংশ নারী। তবে বিশেষায়িত দুই ব্যাংকে কোনো নারী পরিচালক নেই। বেসরকারি ব্যাংকের ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ পরিচালক নারী। আর বিদেশি ব্যাংকে এ হার ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এদিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চালু করেছে। ব্যাংকগুলো মাঝে মাঝে লৈঙ্গিক সমতা বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। ব্যাংকগুলোর নেওয়া এসব উদ্যোগের ফলে নারীরা স্বাচ্ছন্দে চাকরি করতে পারছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও সময়ে সময়ে এসব সুবিধার বিষয়ে তদারকি করে থাকে। জানা গেছে, দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংকে কর্মরত নারী কর্মীদের জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর রয়েছে। ৩৭টি ব্যাংক শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করেছে। ৩৩টি তফসিলি ব্যাংকের লৈঙ্গিক হয়রানি বন্ধের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। নির্দিষ্ট কর্মঘন্টার পর নারী কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২৬টি ব্যাংকের নিজস্ব পরিবহন সুবিধা রয়েছে। অবশ্য ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সবগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর থাকলেও কোন প্রতিষ্ঠানের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র নেই। লৈঙ্গিক হয়রানি বন্ধের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের। আর নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা আছে ২১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।

 

ব্যাংক এশিয়ার পুরানা পল্টন শাখা। ছবি: রেহেনা আক্তার