জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, এ অঞ্চল তথা দেশে অগ্রগতির যে ধারা শুরু হয়েছে তা যদি চলমান থাকে এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে শ্রমজীবী মানুষসহ সকলের ভাগ্যের পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে। আমরা না থাকলেও আগামী প্রজন্ম উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতাকে বহন করবে এবং দেশের মানুষ তাদের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত স্বাদ পাবে।
তিনি গতকাল শনিবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি হাইস্কুল মাঠে জেপি’র উদ্যোগে আয়োজিত মহান মে দিবসের গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, আমরা সবসময় ঐক্য, সমঝোতা ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতির কথা বলে এসেছি। সাথে কথা ও কাজের সমন্বয় সাধন করে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে তত্পর থেকেছি। গত ৩২ বছরে দেশের পশ্চাত্পদ এলাকা দক্ষিণাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুত্, মসজিদ-মন্দির ইত্যাদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখে চলেছি। এই কাজে যেমন স্থানীয় নেতৃত্ব আমাদের সহযোগী ছিল, তেমনি জনগণও অব্যাহতভাবে আমাদের সমর্থন জুগিয়েছে। অতীতে ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মনোনীত করতে ভোটারদের রায়কে প্রাধান্য দিয়ে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে সাথী করেছি। এবার এ নির্বাচনে ‘মার্কা’ প্রচলন ঘটায় সে সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত থেকে আমরাও দলীয়ভাবে এ ভোটে অংশ নিয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে ইউপি নির্বাচন ও তার ফলাফল নিয়ে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও ঝগড়া-ফ্যাসাদ হচ্ছে তা বাঞ্ছিত নয়। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো সারাদেশে তথা সমাজ দেহে ছড়িয়ে পড়লে তার ফল শুভ হয় না। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সরকারি কর্মচারীদেরও নিরপেক্ষ থাকতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে তারা জনগণের সেবক, কোনো দলের নন। পাশাপাশি যারা সন্ত্রাস, সহিংসতা, মাস্তানি-গুণ্ডামি করেন তারাও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। যারা ঝগড়া-ফ্যাসাদ-বিশৃঙ্খলা করে তারা গণবিরোধী, জনগণই তাদের প্রতিহত করবে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, আমরা সকল সময় দ্বন্দ্ব-সংঘাত-অনৈক্যের রাজনীতিকে দূরে ঠেলে এলাকার মানুষের সেবা করে এসেছি। এ ঐক্যের কারণে কেন্দ্র থেকে ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী আমাদের পাওনা এনে জনগণের জন্য কাজ করতে সমর্থ হয়েছি। যেকোন মূল্যে এ ঐক্য বজায় রাখতে হবে। অতীতে যেমন লড়াই-সংগ্রাম করে মানুষের হক প্রতিষ্ঠিত করেছি আগামীতেও অনুরূপভাবে জনগণের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে সচেষ্ট থাকব। জাতীয় পার্টি-জেপি’র ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জেপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জ্বল, উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ইকড়ির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জেপি নেতা আব্দুল হাই হাওলাদার, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক মশিউর রহমান মৃধা, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, স্থানীয় জেপি নেতা সুলতান আহমেদ, যুব সংহতির উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ বাহাদুর সরদার, ছাত্র সমাজের উপজেলা সদস্য সচিব সালাউদ্দিন রাহাত জোমাদ্দার, মোঃ বাদল মিয়া ও মোঃ শাহীন জোমাদ্দার। এ সময় মঞ্চে ছিলেন জেপি নেতা দেলোয়ার হোসেন বেপারী, উপজেলা যুব সংহতির আহ্বায়ক শহীদুজ্জামান রাজু মল্লিক, সদস্য সচিব মনির সরদার, ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম শিমুল আকন প্রমুখ।
সকালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে খালের ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ব্রিজ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতে শরিক হন। দুপুরে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত অনুদানের চেক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত ঢেউটিন ও নগদ অর্থ উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করেন। এ সময় আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় উন্নয়নের ধারায় যে ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে তা সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। আর এরই আলোকে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয় সাধন করে কাজ করা বাঞ্ছনীয়। ভাণ্ডারিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি, পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মহিউদ্দিন মহারাজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, তেলিখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহদাত হোসেন, নদমূলা-শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কবির তালুকদার বাবুল, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল করিমসহ বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহদাত হোসেন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেনসহ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।
