প্রথম বাংলাদেশ-গ্রিস ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট

আপডেট : ২৯ মে ২০১৬, ১৪:৫০
 
বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্সের উদ্যোগে এই প্রথমবারের মত গ্রিসের আপেদিওনাতে অনুষ্ঠিত হল বাংলাদেশ-গ্রিস ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। দুই দিনের এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন গ্রিস সরকারের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী স্টাভরোস কন্টোনিস এবং গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশদের রাষ্ট্রদূত জসীম উদ্দীন।
 
মোট চারটি দল এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে। এথেন্স থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশি শ্রমিক অধ্যুষিত এপেদিওনাতে অনুষ্ঠিত এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে ঘিরে শুধু প্রবাসী বাংলাদেশি নয়, স্থানীয় গ্রীক জনগণের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দেয়। গ্রিস সরকারের ক্রীড়া উপমন্ত্রী ছাড়াও চিফ অফ দ্য ডিসট্রিক অফ ওয়েস্টার্ন গ্রিস এপোসটুলুস কাতসিফেরাস, গ্রিসের দক্ষিণ আখাইয়ার মেয়র ক্রিস্টস নিকোলাস, স্থানীয় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন কৃষি খামার মালিকসহ সাধারণ গ্রিক নাগরিকরাও তাঁদের কাছে তুলনামূলক ভাবে অপরিচিত ক্রিকেট টুর্নামেন্ট গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখতে আসেন।
 
IMG0
২৭ মে এই টুর্নামেন্ট উদ্বোধন কালে গ্রিক সরকারের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী স্টাভরোস কন্টোনিস টুর্নামেন্টটি আয়োজনের জন্য এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাসসহ প্রবাসী বাংলাদেশি এবং গ্রীক নাগরিকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন যে, এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন দুই দেশের জনগণ পরস্পরের কাছাকাছি আসতে সক্ষম হবে, তেমনি বাংলাদেশ ও গ্রীসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও দৃঢ়তর হবে।
 
২৮ মে এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা দেখেন গ্রীক সরকারের শ্রমমন্ত্রী জর্জ কাত্রোগালোস এবং বাংলাদেশ-গ্রিস পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আন্দ্রিও রেজুলিস। সমাপনী অনুষ্ঠানে গ্রিসের শ্রমমন্ত্রী গ্রীসে কর্মরত সাধারণ বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং তাঁদের কল্যাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব রকম সহযোগিতার কথা বলেন। বাংলাদেশ-গ্রিস পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যানও অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করে বলেন যে, ক্রিকেটের মত খেলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের জনগণের আরো কাছে আসার সুযোগ তৈরি হল।
IMG1
গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশদের রাষ্ট্রদূত জসীম উদ্দীন দূতাবাসের উদ্যোগে এই আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী গ্রিক নাগরিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা করেন যে বাংলাদেশের মত গ্রিসেও একদিন ক্রিকেট জনপ্রিয়তা লাভ করবে এবং ক্রিকেটসহ অন্যান্য উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দুদেশ আরও কাছাকাছি আসতে সক্ষম হবে। গ্রিক কৃষি খামার মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন তাঁদের খামারে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে তাঁরা যেন নিজের সন্তান তুল্য মনে করে সব সময় তাঁদের পাশে থাকেন এবং তাঁদের কল্যাণে সম্ভব্য সব রকম সহযোগিতা করতে খামার মালিকদের প্রতি রাষ্ট্রদূত অনুরোধ জানান।
 
এই টুর্নামেন্টে চারটি দল অংশ নেয়। বাংলাদেশ ও গ্রিসের নদী ও স্থানের সাথে মিল রেখে দলগুলো নামকরণ করা হয় পদ্মা-মানোলদা, মেঘনা-মানোলদা, যমুনা-লাপ্পা এবং সুরমা-লাপ্পা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে সুরমা-লাপ্পাকে ২৭ রানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে যমুনা-লাপ্পা।
IMG2
দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটিকে স্থানীয় গ্রিক ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়া অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে প্রচার করে। স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেল খেলাটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কিছু অংশ সরাসরি সম্প্রচার করে। এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে আন্তঃ সম্পর্ক তথা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করে গ্রিসে নিযুক্ত হাইকমিশনার।