বেহাল অবস্থায় গুয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট : ৩১ মে ২০১৬, ০৫:০৬
নানা সমস্যায় জর্জরিত সিরাজদিখান উপজেলার গুয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
 
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক স্বল্পতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকের সাতটি পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। তার মধ্যে প্রধান শিক্ষককে অফিসের কাজে প্রায়ই উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন কাজে ছুটতে হয়। তাই বাকি দুইজন শিক্ষকের পক্ষে ২শ ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীর ছয়টি ক্লাসে পড়াশোনা করানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
 
জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট অনেকটা কৃত্রিম। কারণ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকলেও এ বিদ্যালয় থেকে অনেক শিক্ষককে প্রেষণে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন শিক্ষা কর্মকর্তা। অথচ যে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন সে বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন। এমনকি অনেক শিক্ষককে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্যত্র বদলি করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।
 
এদিকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির কারণ সম্পর্কে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, অনৈতিক এ কাজ আমি করেছি উপরের নির্দেশে।
 
অপরদিকে বর্তমানে একটি পরিত্যক্ত ভবনে চলছে ক্লাস। ক্লাস চলাকালীন সময় প্রায়ই ছাদের প্লাষ্টার খসে শিক্ষার্থীদের উপর পড়ে। কিছুদিন আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সা পর্যন্ত নিতে হয়েছে। ভবনটির ছাদ, ওয়াল ও পিলারের মধ্যে বড় বড় ফাটল ধরেছে। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। তাই আকাশে মেঘ দেখলেই অনেক সময় বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দিতে হয়। এ দুরবস্থার কথা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে ও বিভিন্ন মিডিয়াতেও বিভিন্ন সময় প্রচারিত হয়েছে। তার পরও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে জানান বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সামসুজ্জামান পনি।