ঝালকাঠির অধিকাংশ লবণ কারখানার উত্পাদিত লবণে পরিমিত মাত্রায় আয়োডিন দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই এ লবণে মানবদেহে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকার এসব কারখানায় বিনামূল্যে এসআইপি মেশিন দিলেও দু’একটিতে ছাড়া তা কাজে লাগানো হচ্ছে না। ঘন-ঘন লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুত্ খরচের অজুহাতে হাত স্প্রে করার কারণে সঠিক মাত্রায় আয়োডিনমিশ্রিত হচ্ছে না। ঝালকাঠির বাজার ছাড়াও এখানে উত্পাদিত লবণ বরিশাল, বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালি, বরগুনা, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর মনিটরিংয়ের পাশাপাশি অসাধু মিলগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে।
তবে সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা না করে দায়ী মিলগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান চালিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করলে সফলতা আসতে পারে। ঝালকাঠি জোনের ১০টি কারখানায় আয়োডিন লবণ উত্পাদিত হচ্ছে। এক কেজি আয়োডিন ১৬ টন লবণে মিশানো হয়। এসআইপি মেশিনের মাধ্যমে আয়োডিন মিশানো হলে পিপিএম’র মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে। যা মানব দেহের জন্য সহনশীল। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে ঝালকাঠির একাধিক কারখানার উত্পাদিত লবণ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে আয়োডিনের মাত্রা সহনশীল পর্যায়ের চেয়ে অনেক কম-বেশি পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি বিসিকের সহকারী মনিটরিং ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আল আমিন জানান, এসআইপি মেশিন ছাড়া হাতে স্প্রে করে আয়োডিন মিশানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি এরকম কোনো তথ্য পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাসিক রিপোর্টে লবণে আয়োডিনের মাত্রা পাওয়া গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের চেয়ে এটা অনেক কম। তবে তিনি জানান, আয়োডিনের পরিমাপ কম-বেশি হলে বিভিন্ন চর্মসহ জটিল রোগের সৃষ্টি হয় মানব দেহে।
