চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ যতদিন বেঁচে থাকবে, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ততদিন বাঙালি জাতির জীবনে সমুজ্জল থাকবেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান এ ব্যক্তিত্বের অবদান চিরকাল অম্লান থাকবে।’
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সংবাদপত্র জগতের পথিকৃত্, স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া স্মরণে ‘তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, দৈনিক ইত্তেফাক ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ড. ইফতেখার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাঙালী জাতিকে স্বাধীনতার স্বাদ এনে দিলেও মানিক মিয়ার অবদানও কোনো অংশে কম ছিল না। মানিক মিয়াই বাঙালি জাতিকে জাগ্রত করতে বঙ্গবন্ধুর জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন, যা বঙ্গবন্ধু তাঁর লেখায় স্বীকারও করেছেন।
ভিসি বলেন, ‘প্রতিটি জাতির কিছু অনুসরণীয় ব্যাক্তিত্ব থাকে। বিশাল ক্যানভাসের কিছু মানুষ থাকেন। মানিক মিয়া সে রকমই বিশাল ক্যানভাসের একজন ব্যক্তিত্ব। নতুন প্রজন্মের মাঝে তাঁর মতো ব্যক্তিত্বতে অনুসরণের মানসিকতা তৈরি করতে পারলে তারা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।’ এ সময় তিনি মানিক মিয়ার কর্মকান্ড পরিচিত করার জন্যে চবি শিক্ষার্থীদের জন্য লাইব্রেরিতে মানিক মিয়া কর্ণার করার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট চিকিত্সক ও চিটাগাং ক্লাবের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু, মানিক মিয়ারা বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা আজ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। একমাত্র বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া বাকী যেসব রাজনীতিবিদ আছেন তাদের দেশপ্রেম প্রশ্নবোধক। মানিক মিয়ারা খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলেছিলেন। একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। অথচ আজ দেশে উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও গণতন্ত্রের বিকাশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।’
সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, ‘তাঁর (মানিক মিয়া) সময়ে তিনি যেই ধরণের সাংবাদিকতা চর্চা করতেন, দেশের জন্য, মানুষের কল্যাণের চিন্তা মাথায় রেখে যেভাবে কাজ করতেন তা আজকের সাংবাদিকদের মধ্যে নেই।’
‘দৈনিক ইত্তেফাকে’ চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সালাহউদ্দিন মো. রেজা বলেন, ‘একটি পত্রিকা যে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হতে পারে, একটি স্বাধীনতাকামী একটি জাতির মুখপত্র হয়ে উঠতে পারে ইত্তেফাকের মাধ্যমে তা দেখিয়েছেন মানিক মিয়া।
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘শেখ মুজিব না হলে বাংলাদেশ হতো না। আর মানিক মিয়া না হলে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির মাঝে স্বাধীনতার জন্য জাগরণ তৈরি করতে পারতেন না।’
সাংবাদিক সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ বলেন, ‘মানিক মিয়া শুধু একজন সম্পাদক ছিলেন না, তিনি একজন সমাজবিজ্ঞানীও ছিলেন।
স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতির আয়োজনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সাংবাদিক এসএম জামালউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও নাজিমউদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এমএ সামাদ খান, এডভোকেট মো. আমির হোসেন, সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী, রাজনীতিবীদ সোহেল মাহমুদ, নুর মোহাম্মদ পুতুল, ওসমান জাহাঙ্গীর, এডভোকেট মাশকুরা বেগম মেহরি, কবি সজল দাশ, সাংবাদিক শ্যামল নাথ, লেখক এম কামাল উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম ‘নগর ভবনে’ মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা স্মৃতি পরিষদ। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, ‘তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া আপসহীন, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির অনুসারী ছিলেন। তত্কালীন শাসকগোষ্ঠীর কোনো প্রলোভন, হয়রানি তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি।’ এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আসিফ ইকবাল, আওয়ামী লীগ নেতা আহমদ সোবহান, নগর ছাত্রলীগ নেতা বোরহান উদ্দিন গিফারী, শ্রমিক লীগ নেতা হারুনুর রশিদ, এড. মোয়াজ্জেম হোসেন, দিদারুল ইসলাম খোকা, মোসলেম উদ্দিন, মনির হোসেন, সিবিএ নেতা শহিদুল ইসলাম সুমন, মনির হোসেন, জালাল আহমদ, মো. ফারুক প্রমুখ।
