জ্বালানি গ্যাসের অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ২১:৪৫

ঢাকা ও চট্টগ্রাম এবং এতদসংলগ্ন এলাকায় শিল্প স্থাপনার একটি প্রধান কারণ অত্যন্ত কম মূল্যের জ্বালানি গ্যাস ব্যবহারের সুবিধা। অদূর ভবিষ্যতে দেশের সকল অঞ্চলে কম মূল্যের গ্যাস সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি সম্ভব হবে না বলে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশে প্রাকৃতিক জ্বালানি গ্যাসের ১০টি ভিন্ন ভিন্ন মূল্য রয়েছে। সরকার আমদানিকৃত এবং দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেল সকল ভোক্তার কাছে একটি নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি করে। কিন্তু জ্বালানি প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে ঐ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। বর্তমানে ১ জুন ২০১৭ থেকে দশটি ভিন্ন মূল্যে জ্বালানি প্রাকৃতিক গ্যাস ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হয় :             

 

বাংলাদেশে তরল জ্বালানি তেল অপেক্ষা জ্বালানি গ্যাসের মূল্য খুবই কম। উপরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতি কিউবিক মিটার সিএনজির মূল্য ৪০ টাকা, অথচ সমকাজের জন্য প্রয়োজনীয় এক লিটার ডিজেলের মূল্য ৫৭ টাকা। অন্যান্য দ্রব্যের মতো জ্বালানি গ্যাসের একটি নির্দিষ্ট মূল্য থাকা উচিত। খুচরা ও পাইকারি মূল্যের একটা ব্যবধান থাকা আবশ্যক। তাছাড়া যারা খনি থেকে গ্যাস উত্তোলন করে সরকার তাদেরও সমমূল্য প্রদান করে না।

এলএনজি আমদানির পর প্রতি কিউবিক মিটার গ্যাসের গড় আমদানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২.১৯ টাকা। এ অবস্থায়, যে সব গ্রাহকের জন্য বর্তমান মূল্য ১২.১৯ টাকার কম রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্য প্রতি ঘনমিটার ১২.১৯ টাকা ধার্য করা যেতে পারে। যে সকল গ্রাহকের বর্তমান মূল্য প্রতি ঘনমিটার ১২.১৯ টাকার বেশি রয়েছে তাদের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হলে গ্যাসের দর পার্থক্য হ্রাস পাবে। মূল্যও অধিকতর যৌক্তিক হবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে আবেদন এই যে, গ্যাসের জন্য একটি নির্দিষ্ট মূল্য ধার্যের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ১০টি বর্তমান মূল্যস্তর হ্রাস করে একটি মূল্য ধার্য করার কার্যক্রম শুরু করুন।

মো. আশরাফ হোসেন, আফতাবনগর, বাড্ডা, ঢাকা ১২১২