গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ির জরুন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালি ফেলার সময় পানি ও বালির নিচে তলিয়ে এক শিশু নিখোঁজের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বালি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েও বিকাল ৫টা পর্যন্ত শিশুটির কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ ওই শিশুর নাম শ্রীবাস চন্দ্র দাস (১১)। শিশুটির পিতা নিরঞ্জন চন্দ্র দাস ও মা গীতা রাণী দাস স্থানীয় জরুন এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানার চরবালু বান্দা এলাকায়। তারা ওই এলাকার আরিফুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
নিখোঁজ শিশুর পিতা নিরঞ্জন চন্দ্র দাস জানান, তার ছেলে শ্রীবাস চন্দ্র দাস স্থানীয় বর্ণমালা আইডিয়াল একাডেমিতে ৫ম শ্রেণিতে লেখাপাড়া করত। বুধবার দুপুরে স্কুল থেকে কোচিং শেষে তার সহপাঠী আসাদুল, আরিফ, রাকিব, সজল ও শাওনের সঙ্গে জরুন পূর্বপাড়া এলাকায় বালুর মাঠে খেলতে যায়। সেখানে ড্রেজার দিয়ে একটি জলাশয় ভরাটের কাজ চলছিল। পাইপ দিয়ে যেখানে বালি মিশ্রিত পানি পড়ছিল ওই স্থানে তারা খেলা করতে নামে। এক পর্যায়ে শিশু শ্রীবাস চন্দ্র দাস ও আরিফ বালিমিশ্রিত পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এ সময় আরিফ ওঠে আসতে পারলেও শ্রীবাস তলিয়ে যায়। বুধবার সন্ধ্যায় শ্রীবাস বাসায় না আসায় তার সহপাঠীদের কাছে খোঁজ নিলে তারা জানায়, শ্রীবাস চন্দ্র বালিতে তলিয়ে গেছে। পরে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রীবাস চন্দ্রকে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। না পেয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে বিকাল পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান লিটন জানান, খবর পেয়ে সকাল ১০টা থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বালি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েও শিশু শ্রীবাস চন্দ্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
