আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিমাণ গত অর্থবছরের চেয়ে টাকার অংকে ও শতাংশের হিসেবে বেড়েছে। এতে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত মিলিয়ে মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা এবার সর্বোচ্চ।
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সিপিডির পর্যালোচনা তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে বাজেট নিয়ে সিপিডির পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন সংস্থাটির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ সময় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমসহ সংস্থার অন্য গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, 'আমরা কয়েক বছর যাবত বলে আসছি- শিক্ষাখাতে ব্যয় বাড়াতে হবে। এবার সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে। তবে এটা যথেষ্ট নয়, এ খাতে বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে।' তিনি শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষাখাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।
তিনি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। দেবপ্রিয় বাজেট বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেন। একইসাথে তিনি সরকারের আয় ও ব্যয় কাঠামোতে সংস্কার এবং নীতি সমন্বয় জোরালো করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গত ২ বছরের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম ছিল উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, 'প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ যে পর্যায়ে উন্নীত করতে চায় তার জন্য এ খাত (বেসরকারি) থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বিনিয়োগ আসতে হবে।' কিন্তু এই বিনিয়োগ কীভাবে আসবে সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, 'প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রী চার বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক অর্থায়ন নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু এই পরিমাণ বৈদেশিক অর্থ সরকার ছাড় করতে পারবে কি-না,এ নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।'
৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে গতকাল জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মোট রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা।
