মানবতা, সাম্য, দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২১ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে বন্ধু আলী আকবর খানের বাড়িতে এসেছিলেন। এখানকার সবুজ-শ্যামল পরিবেশ কবিকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে। এখানে অনেক দিন থেকেছেন কবি। রচনা করেছেন বহু কবিতা, গান ও ছড়া। বাংলাদেশের জাতীয় কবির স্মৃতিধন্য এই দৌলতপুরে আজও রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্মিত হয়নি কোনো প্রতিষ্ঠান।
মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়ক ধরে সামনে এগোলেই দৌলতপুর গ্রাম। গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে নজরুল তোরণ। ওই পথ ধরে আধা কিলোমিটার এগোলে খানবাড়ি। এই বাড়ি আর গ্রাম পরিচিত হয়ে ওঠেছে নজরুল-নার্গিসের গ্রাম হিসেবে। এখানে রয়েছে আলী আকবর খানের সুনিপুণ কারুকাজে শোভিত দ্বিতল বাড়ি। এ বাড়িতেই কবি ছিলেন। বাড়িটির পলেস্টারা খসে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে না সংস্কার। এ ভবনের পেছনে বাঁশঝাড় পার হলেই কবির বাসরঘর। জানা যায়, ১৯৬২ সাল পর্যন্ত কবির বাসরঘরটি আটচালা ছিল। পরে চৌচালা হলেও আয়তন ও ভিটির কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ওই ঘরে রয়েছে নার্গিসের ব্যবহার করা কাঠের সিন্দুক। একসময় ওই ঘরে বাসরখাটটি ছিল। এখন সেটি পাশের একটি আধা পাকা ঘরে রাখা হয়েছে।
কবিপত্নী নার্গিস বংশের উত্তরসূরিরা জানায়, এ বাড়ির পুকুরঘাটে কবি দুপুরে শীতলপাটিতে বসে গান ও কবিতা লিখতেন। খানবাড়ির ছেলেমেয়েদের নাচ, গান ও বাদ্যযন্ত্র শেখাতেন। পুকুরের পানিতে সাঁতার কাটতেন। শখ করে পুকুরে জাল আর পলো দিয়ে মাছ শিকার করতেন। কবির এসব স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার জন্য দৌলতপুরে বানানো হয়েছে ‘নজরুল মঞ্চ’। প্রতি বছর কবির জন্মদিনে সেখানে জেলা প্রশাসন ও মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন আয়োজন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এর বাইরে আর কিছুই এখানে হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, ওই মঞ্চে বছরের অধিকাংশ সময় গরু চরে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবির নামে অনেক কিছু হলেও দৌলতপুরে কিছুই হয়নি। দৌলতপুরে কবির নামে একটি স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানান এলাকাবাসী।
