সর্বকালের সেরা বক্সার মোহাম্মদ আলির ক্যারিয়ারের ৫০ বছর পূর্তি। সাল ২০১০। এই কিংবদন্তির স্মরণে ইউএসএ টুডে’তে এক নিবন্ধ ছাপান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
সাদাদের শাসিত আমেরিকায় বাড়ন্ত কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের কাছে মোহাম্মাদ আলি এক আবেদনময়ী নাম। একটু ভিন্ন কিছু, যিনি ছিলেন আমাদের কাছে ভালোবাসার পাত্র। প্রেসিডেন্ট তাঁর লেখায় আলীকে “অসাধারণ প্রত্যাবর্তনকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর এই গুণকে আমি সবসময়ই প্রশংসা করি। প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করার অপরিসীম মানসিক শক্তি এবং সাহস ছিল তার। জীবনের সকল ঝড়ো হাওয়াকে ভিন্নপথে পরিচালিত করতে পারতেন, কখনো হেরে যেতেন না তার কাছে। আমার দেওয়ালে ঝুলে থাকা ছবি যেখানে বিখ্যাত বক্সার সনি লিস্টনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ এ আইকনিক যোদ্ধার দিকে যতবার তাকাতাম, ততবারই তার এসব গুণাবলীর কথা মনে পড়ে যেত।
আর একারণেই “আলি শুধু একজন বক্সার নন, তার চেয়ে বেশি মানুষ।” পৃথিবীর শান্তি ও পুনরেত্রীকরণে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। আর তাই আরেক মহান পুরুষ নেলসন ম্যান্ডেলা জেল থেকে বের হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে তার সাথে দেখা করেন আলি। তার ছিল সকল বয়সের মানুষকে কাছে টেনে নেওয়ার এক অমোঘ ক্ষমতা। ঐ নিবন্ধে এমনটাই উল্লেখ করেন ওবামা।
সবশেষে এই বলে লেখাটি শেষ করেন প্রেসিডেন্ট ওবামা:“মোহাম্মাদ আলি, যিনি আজ আমাদের অণুপ্রেরণার উত্স, যে মানুষটি বিশ্বাস করেন জীবনে ব্যর্থতার পর আবার কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়, আমাদের কাছে অসীম বিশ্বাস আর অকৃত্রিম ভালোবাসার নিদর্শন রেখে গেছেন এবং প্রত্যেকেই বিশ্বকে বাসযোগ্য করে তুলতে পারি এমন উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন এই প্রবাদপ্রতিম পুরুষ। চ্যাম্পিয়ন তুমি আছ এবং সবসময়ই থাকবে”।
গত শুক্রবার শত শত রেকর্ডধারী, নজিরবিহীন এ ব্যক্তিত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ফোনিক্স-এরিয়া হাসপাতালে ৭৪ বছর বয়সে অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীকে কাঁদিয়ে এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে ওপারে চলে গেছেন।
