শেষ ধাপ ইউপি নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, সীল মারাসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র ১৪ চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
গাইবান্ধা:গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ৯ নম্বর কামালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মতলুবর রহমান রেজা নির্বাচন বর্জন করেছেন। কামালেরপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট কারচুপি ও প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ এনে শনিবার সকাল ১০টার দিকে বারকোনা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে তিনি নির্বাচন বর্জনের এ ঘোষণা দেন।
বারকোনা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ‘ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে দু’একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। চেয়ারম্যান প্রার্থী মতলুবর রহমান রেজা ভোট বর্জনের কোনো লিখিত অভিযোগ তিনি পাননি।
নড়াইল:নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী খান জাহাঙ্গীর আলম (মোটরসাইকেল) ভোট বর্জন করেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার সময় তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
খান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নৌকার সমর্থকরা তার কর্মী-সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছে। কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। ভয়ভীতি দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে টেবিলের ওপর ভোট দিতে ভোটারদের বাধ্য করা হচ্ছে।
ঈশ্বরদী (পাবনা): পোলিং এজন্টেদের বের করে দেয়া, নৌকা প্রতীকে ভোট প্রদানে বাধ্য করা এবং ভোট কেটে নেয়ার অভিযোগ এনে ঈশ্বরদীতে শনিবার অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে বিএনপির ৪ এবং স্বতন্ত্র ১ চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মূলাডুলি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রহমান ফান্টু মণ্ডল প্রথম ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। দুপুর ১২টার দিকে পৃথক পৃথক সাংবাদিক সম্মেলন করে বিএনপির পাকশী ইউনিয়নের প্রার্থী জাকিউল ইসলাম তপন সরদার, দাশুড়িয়া ইউনিয়নের আমিনুল ইসলাম কেনেডি, মূলাডুলি’র সিরাজুল ইসলাম সরদার ও সাঁড়া ইউনিয়নের আক্কাস আলী মণ্ডল এই বর্জনের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া দাশুড়িয়া ইউনিয়নের বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম রবিউল ইসলামও একই অভিযোগে ভোট বর্জন করেন।
সদর দক্ষিণ (কুমিল্লা):কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, ব্যাপক জাল ভোট প্রদান, প্রার্থীদের প্রাণনাশের হুমকি ও বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে বিএনপি মনোনীত ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় হোটেল নুরজাহানে এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামছুল আলম এ ঘোষণা দেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বিজয়পুর ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রব জিলানী, বিএনপি নেতা ইসমাইল মজুমদার, মো. আমিনুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. খলিলুর রহমান মজুমদারসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন বর্জনকারীরা হলেন বিজয়পুর ইউপি বিএনপি প্রার্থী কামরুল হাসান এয়াকুব, ভুলইন (উত্তর) ইউপি প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান এবিএম ওমর ফারুক সুমন, ভুলইন (দক্ষিণ) প্রার্থী হাফেজ মো. বেলাল হোসেন, বেলঘর (উত্তর) ইউপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার রিপন ও বাগমারা (উত্তর) বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোস্তফা কামাল। এ ছাড়াও ভুলইন (দক্ষিণ) ইউপি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমির হোসেনও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
বাগাতিপাড়া (নাটোর):নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দুই ইউনিয়নের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ও দুই মেম্বার প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, এজেন্ট বের করে দেয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান, জাল ভোট, প্রকাশ্যে ভোট প্রদান ও ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিলমারার সত্যতা পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার ৪ ঘণ্টা পর বাগাতিপাড়ার জামনগরে ধানের শীষের প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রাব্বানী, থানা বিএনপির সহ-সভাপতি বাগাতিপাড়া ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রার্থী হায়দার রশিদ সোনা, জামনগরের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী বাচ্চু কুমার দাস, বাগাতিপাড়ার ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী শাহজাহান আলী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। উপজেলার জামনগর বাজারে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের কাছে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন গোলাম রাব্বানী ও বাচ্চু দাস।
সিরাজগঞ্জ:উল্লাপাড়া উপজেলার ইউপি নির্বাচনে ভোট কারচুপি, জোরপূর্বক ভোট কেটে নেয়াসহ নানা অভিযোগ এনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ নির্বাচন বর্জন করেছেন। দুপুর ১টায় উল্লাপাড়ায় তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
প্রিজাইডিং অফিসার নুরুল হুদা সরকার জানান, সকালে তিনি ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। পরে কেন্দ্রের মধ্যে কি হয়েছে তা তিনি জানেন না বলে জানান। চেয়ারম্যান ব্যালট বাকি রেখে মেম্বর প্রার্থীর পক্ষে ভোট গ্রহণের কথা তিনি স্বীকার করেন।
