জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের এক আক্রমণের পরে তাদের কথিত রাজধানী রাকাতে প্রবেশে করেছে সিরীয় সেনাবাহিনী। শুক্রবারের এই অভিযানে আইএসের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে সিরীয় সেনাবাহিনীকে রাশিয়া সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে।
শনিবার এ খবর জানিয়েছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। লড়াইয়ে আইএসের অন্তত ২৬ জন যোদ্ধা এবং সিরীয় ও তাদের মিত্র বাহিনীগুলোর নয় সদস্য নিহত হয়েছেন। আসাদ সরকারপন্থি লেবাননি সংবাদপত্র আল আখবার জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাকায় পৌঁছানো সেনাবাহিনীর অভিযানের লক্ষ্য নয়, ওই সময়ের মধ্যে তারা আসাদ হ্রদের তীরে তাবাক সিটিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। তাবাক থেকে রাকা প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। তাবাকে একটি বিমান ঘাঁটি আছে। ২০১৪ সালে টাউনটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আইএস। রাকামুখী একটি প্রধান সড়কপথের ওপর টাউনটি অবস্থিত।
এই নিয়ে গত কয়েকদিনে তিনটি বড় ধরনের হামলার মুখোমুখি হল মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। গোষ্ঠীটির দখলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শহর ফালুজা পুনরুদ্ধারে সম্প্রতি বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে ইরাকি বাহিনী। এরইমধ্যে তুর্কি সীমান্তের নিকটবর্তী সিরিয়ার মানবিজের দিকে আরেকটি অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীরা।
সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল অংশ দখল করে নিয়ে তথাকথিত খিলাফত ঘোষণার পর থেকে এই প্রথম এ ধরনের ব্যাপক অভিযানের মুখোমুখি হল আইএস। রাকার প্রান্তে সিরীয় সেনাবাহিনীর উপস্থিত হওয়ার আগে প্রতিবেশী হামা প্রদেশে আইএস অধিকৃত এলাকাগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এর আরো পূর্বদিকে রাকা প্রদেশের প্রধান শহর আল রাকা, সিরিয়ায় আইএসের প্রধান শক্তিকেন্দ্র।
শুক্রবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাকার কিছু এলাকা মুক্ত করেছে সেনাবাহিনী এবং জঙ্গিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সিরীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। এই অভিযানে সরকারি বাহিনীর কতজন সেনা অংশগ্রহণ করেছে, তারা কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করছে এবং কতজন হতাহত হয়েছে, সে সম্পর্কে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কিছু বলা হয়নি। রয়টার্স।
