বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ভারত সরকার ‘মুক্তিযোদ্ধা উত্তরাধিকার বৃত্তি’ দিয়ে আসছে। মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে চিরন্তন এক যোগসূত্র সৃষ্টি করেছেন। তারা কঠিন সংগ্রাম করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুন্দর জাতি গঠনের পথ সৃষ্টি করেছেন। তাদের সেই আত্মত্যাগের মহিমা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, তার সেই আত্মত্যাগকে ভুলে গেলে চলবে না বরং তাকে শক্তিতে পরিণত করে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারদের। গতকাল বারিধারার ভারতীয় হাইকমিশনের চ্যান্সেরি কমপ্লেক্সে ‘মুক্তিযোদ্ধা উত্তরাধিকার বৃত্তি’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সম্মানিত অতিথি ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের জিওসি-ইন-সি এম এম নারাভানে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার প্রতি বছর মুক্তিযোদ্ধা উত্তরাধিকারীদের বৃত্তি প্রদান করে আসছে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাগণ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন আমলাগণ। এই বছর ২ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী নতুন ও পুরনো প্রকল্পের অধীনে বৃত্তি লাভের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের সকল জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে ব্যাপক সহযোগিতা করেছে। এ বছর থেকে ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের সাথে ডিরেক্ট ব্যাংক ট্রান্সফার (ডিবিটি) পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বৃত্তির টাকা সরাসরি জমা হবে।
এ বৃত্তির দুইটি প্রকল্প একযোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৯৫৭ শিক্ষার্থীকে মোট ২৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ২০০৬ সালে ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধা উত্তরাধিকারীদের জন্য ‘মুক্তিযোদ্ধা বৃত্তি প্রকল্প’ চালু করে। পুরনো প্রকল্পের অধীনে, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৩৩৬ শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছেন এবং এ উদ্দেশ্যে ১৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
