সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের ধরতে চট্টগ্রাম শহরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন বাবুল আকতার। সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে গত বছর নগর গোয়েন্দা বিভাগের এডিসি হিসেবে বাবুল আকতার চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন স্থাপনা, মার্কেট, অফিস ও বাসা-বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন।
কিন্তু গতকাল রবিবার সকালে তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে যে স্থানে দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে উক্ত স্থানকে ধারণ করার দূরত্বে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। মিতুকে তার বাসার অনতিদূরে চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ ওয়েল ফুড সংলগ্ন পুরাতন সোনালী হোটেলের সম্মুখে খুন করা হয়; যে রেস্টুরেন্টটি বর্তমানে ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। এর সামনের রাস্তার উল্টো দিকে অবকাশ নামে একটি আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। সিডিএ’র চেয়ারম্যান আবদুছ ছালামের মালিকানাধীন ওয়েল ফুডের নীচে ক্যামরা থাকলেও তা বিপরীতমুখী ছিল এবং ওই স্থান ধারণ করার মতো অবস্থানে ছিল না। আবার যে স্থানে খুনের ঘটনা ঘটে তার বিপরীত সড়কের পাশে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার দুই পাশে দু’টি ক্যামেরা থাকলেও ঘটনাস্থল ধারণ করার মতো অবস্থানে নেই। অর্থাত্ দুর্বৃত্তরা এমন স্থানে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে, যে স্থানকে ধারণ করার সীমানায় কোনো ক্যামেরা ছিল না।
তবে দুর্বৃত্তরা মটর সাইকেলযোগে আসা ও চলে যাওয়ার দৃশ্য কয়েকটি স্থাপনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে পাওয়া গেলেও তা মোটেই স্পষ্ট নয় বলে জানা যায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর চট্টগ্রাম প্রধান এডিসি মো. মাঈনুদ্দিন জানান, দুর্বৃত্তদের বহনকারী মটর সাইকেল পূর্বদিক তথা গোলপাহাড় মোড় এলাকা থেকে এসে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আবার ওই পথেই ফিরে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে উক্ত সড়ক পাশের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, হিন্দুদের মন্দিরসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ভবনের সড়ক অভিমুখী ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মটর সাইকেল আরোহী তিন দুর্বৃত্ত ঘটনাস্থলের অনতিদূরেই অবস্থান করছিল। কারণ বাবুল আকতার যে বিল্ডিংয়ে (ইকুইটি সেন্ট্রাম) থাকেন তা থেকে ঘটনাস্থলে হেঁটে যেতে ৩/৪ মিনিটের বেশি লাগবে না।
