কামিজে বৈচিত্র্য

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৬, ১২:০৪
 
উৎসবের সাথে পোশাকের সম্পর্ক চিরায়ত। মেয়েদের কাছে উৎসব মানে নতুন পোশাক, নতুন সাজ ও নিজেকে নতুন করে তুলে ধরা। কিছু পোশাকের কদর সারাবছরই থাকে। উৎসব এলে সেগুলোর কাটতি আরও বাড়ে। মেয়েদের কামিজ এরমধ্যে অন্যতম। সময়ের সাথে সাথে কামিজের ডিজাইনে এসেছে বৈচিত্র্য। হাল আমলের ফ্যাশন নিয়ে আসছে নানা নকশার কামিজ। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কামিজের সাথে বুটিকস হাউসগুলোর প্রতিযোগিতা করছে কীভাবে কামিজের চিরায়ত রূপের সাথে নতুন ডিজাইন যোগ করে আরও আধুনিক করা যায়।
 
তরুণীদের পোশাকের চাহিদায় এক নম্বরে থাকে কামিজের নাম। কাটছাট আর ডিজাইনের নান্দনিকতায় প্রতি উৎসবই নতুন রূপ দেখা যায়।
 
IMG0
 
এবারে ঈদকে সামনে রেখে কামিজের কাটিংয়ে পরির্বতন আনা হয়েছে। উচ্চতা অনুসারে লং-কামিজের সাথে চুরিদার পায়জামার পরিবর্তে পালাজো সংযোগ করা হয়েছে। গত দু’বছরে মেয়েদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পশ্চিমা স্টাইলের এই পায়জামা। এই পায়জামার সাথে মিল রেখে লং ট্রেন্ডের কামিজ তৈরি হচ্ছে। বাজারে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। এছাড়া প্যান্ট স্টাইলের পায়জামাকে ঘিরে বাজারে লংকামিজ দেখা যাবে। হাল আমলের ফ্যাশন হিসেবে এর কদর বাড়ছে। গরমের কথা মাথায় রেখে লংকামিজের সাথে থ্রি-কোয়ার্টার হাতা ব্যবহার করা হয়েছে। কামিজে হাইফেন ও রিনেক গলার সাখে বোর্ট, ভি, ভেনকলার যুক্ত হয়েছে। সালোয়ার-কামিজে বিভিন্ন ধরনের কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। মসলিন, তাঁত, পাকিস্তানি লোন, লিলেন, সিল্ক, এন্ডি সুতি, হাফসিল্ক, জর্জেট এবং শিফনের কাপর বেশি ব্যবহার হচ্ছে কামিজ তৈরিতে। ভিন্নধর্মী রঙের কামিজ রয়েছে। তবে লাইট রংগুলো বেশি চলছে। লাল, কমলা, গোলাপি, মেরুন, সবুজ, লেমন, হলুদসহ বিভিন্ন রঙের কামিজের কাটতি রয়েছে বাজারে।
 
দেশের সকল শপিংমলে দেশি-বিদেশি কামিজের কেনাবেচা বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশি ফ্যাশন হাউসগুলো এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। ডিজাইন, রং আর কাপড়ের বৈচিত্র্য দিয়ে বাঙালি মেয়েদের পছন্দের শীর্ষ তালিকায় চলে আসছে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলো কামিজের সাথে কটি স্টাইল নিয়ে আসছে। গরমে কামিজের সাথে কটি আরামদায়ক নয় বলে অনেকে এমব্রয়ডারি করে কটির লুক তৈরি করছে। এছাড়া হাতের কাজ, অ্যাপ্লিকের কাজ থাকছে। হাতার মধ্যে ঘটি ডিজাইন ব্যবহার করছে। ফ্যাশন হাউসগুলো পালাজোকে কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছাচের কামিজ নিয়ে এসেছে। অনেক বুটিকস হাউস গরমের কথা মাথায় রেখে সুতি আর লিলেন কাপড়কে প্রাধান্য দিচ্ছে কামিজ তৈরিতে। এক্ষেত্রে তারা হালকা রং ব্যবহার করছে। যাদের আগ্রহ ও পছন্দ দেশি ফ্যাশন হাউসের পোশাকের প্রতি, তারা ঘুরে আসতে পারেন আড়ং, রঙ, নগরদোলা, নকশা, বাংলারমেলা, বারনী, সাদাকালো, বিবিয়ানা ইত্যাদিতে। রাজধানীর ছোট-বড় সকল শপিংমলে জর্জেট এবং বাহারি কাপড়ের কামিজ পাওয়া যাবে। মার্কেটে গেলেই পাবেন আপনার পছন্দের পোশাকটি। অনেকে আনস্টিচ কাপড় দিয়ে পছন্দ মতো ডিজাইনের কামিজ পড়তে পছন্দ করেন। তাদের যেতে হবে ঢাকার গাউছিয়া, নিউমার্কেট, চাঁদনীচক, ইসলামপুর, বনানীবাজার এবং মিরপুর। সব ধরনের কাপড় এবং ডিজাইনের পোশাক মিলবে এই জায়গায়। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দিনে দিনে বদলে যাচ্ছে মানুষের রুচি। বাড়ছে পছন্দের মাত্রা। তার সাথে রয়েছে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব। উত্সবের বাজারে ক্রেতার চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নিত্যনতুন ডিজাইন যুক্ত হচ্ছে। তবে আমাদেরকে দেশি পোশাক পরিধানের প্রতি গুরুত্ব বাড়াতে হবে।