‘তুই একবার ফিরে এসে আমায় মা বলে ডাক’

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ২২:৫২

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বনানী সামরিক গোরস্তানে আবরার আহাম্মেদ চৌধুরীর দাফনের সময় কান্না-আহাজারিতে এক হূদয় বিদারক পরিবেশের অবতারণা হয়। এসময় বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আর বিলাপ করছিলেন আবরারের মা ফরিদা ফাতেমী। তিনি বলছিলেন, ‘ও বাবা কথা বলো, বাবা! আমার বাবাটাকে কখনো একা ছাড়তে চাইতাম না। ও বলতো, আম্মু, আমিতো বড় হয়েছি, তুমি যদি আমাকে একা চলাফেরা করতে না দাও, তবে আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট হবো কীভাবে? সবাই আমার বাবাটাকে অনেক পছন্দ করতো। পরিবারের মাথার মুকুট ছিলি তুই। আমাদের একা ফেলে চলে গেলি কীভাবে? আমি কীভাবে তোকে ছাড়া থাকব? তুই একবার ফিরে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে মা বলে ডাক বাবা।’

কবরের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন আবরারের বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহাম্মেদ চৌধুরীও। তিনি বিলাপের সুরে বলছিলেন, ‘আমার বাবাটা আর আমার কাছে আসবে না, আমাকে আর কোন দিন আদুরে কণ্ঠে বাবা বলে ডাকবে না। কোন দিন আমার আবরাররে আর দেখতে পাবো না। আমার জীবনের সকল সফলতা যেন একটি ঘটনায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।’

এসময় কবরের পাশে উপস্থিত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন অশ্রুসজল। আবরারের ছোট চাচা মাসুদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আবরার কমিশন র্যাংকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। তার ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীর ডাক্তার হওয়ার। এ বছর মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় সফল না হওয়ায় আগামী বছর আবারও মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা ছিল তার। এবার মেডিকেল কলেজে সুযোগ না পেয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপ (আইআর) বিভাগে ভর্তি হয়েছিল সে। তিনি বলেন, সে ছিল সকলের আদরের পাত্র। বই পড়ার প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো আবরার। সকলে তাকে খুব পছন্দ করতো।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আবরারসহ দুই ছেলে ছিল ফরিদা ফাতেমীর। ছোট ছেলে আবীদ আহমেদ চৌধুরী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। বসুন্ধরা ডি ব্লকে ভাড়া বাসায় থাকে আবরারের পরিবার।