সিঙ্গাইরে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ২৩:৫৮

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন  উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শহিদ। নৌকা মনোনয়ন না পেয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা আ.লীগের সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান। এদিকে হান্নানকে সমর্থন জানিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারিসহ বর্তমান ও সাবেক বেশ কয়েকজন নেতা। এছাড়া সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুলও সমর্থন দিয়েছেন হান্নানকে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীরা এখন বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যে এবং গোপনে দুই নেতাকে সমর্থন দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার এমনও নেতা এবং জনপ্রতিনিধি আছেন যারা উভয় কূলই রক্ষা করে চলছেন। তারা কাউকেই অখুশি করতে চান না এ মুহূর্তে। 

এদিকে নির্বাচনে দুই প্রার্থীই কর্মীদের নিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। ভোট প্রার্থনা করে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিপদে আপদে সবসময় পাশে থাকবেন। উন্নয়নের কাজ করে যাবেন। সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করবেন সিঙ্গাইরকে। একে অপরের দোষ তুলে ধরে বক্তব্য রাখছেন। তাই ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী এখন আওয়ামী লীগই। সেই সঙ্গে এলাকার পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আনারস মার্কা সমর্থিত থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হাজী আব্দুল মাজেদ খান অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ছোট কালিয়াকৈর গ্রামের আনারসের পোস্টার লাগাতে গিয়ে ইদ্রিস আলী বিশ্বাস নামে এক ইউপি সদস্যকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নৌকার সমর্থক ওবায়দুর রহমান গংরা। ইতিপূর্বে পৌরসভার প্যানেল মেয়র সমেজ উদ্দিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ওবায়দুর বলেন, আনারসের অফিস ভাড়া নেওয়ার মত এখানে তারা কোনো ঘর  নিতে পারছেন না। জোর করেই একজনের ঘর ভাড়া নিতে চাইলে তাদের হামলায় সে আহত হয়েছেন বলে  শুনেছি। এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না। নৌকা প্রতীকের থানা আওয়ামী লীগ নেতা মীর শাহাজাহান বলেন, ইদ্রিস আগের দিন নৌকার ভোট চেয়েছেন আবার ঐদিন আনারসে ভোট চেয়েছেন। এ কারণেই তার উপর হামলা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে আনারসের এজেন্ট দেওয়ার মতো লোক নেই। সে নির্বাচনে পাস করে কিভাবে। নৌকাই পাস করবে এখানে। একই কথা বললেন থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বারেক খান। অপরদিকে আনারস সমর্থিত থানা আওয়ামী লীগের আরেক নেতা নজরুল ইসলাম খান রতন এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট লুত্ফর রহমান বলেন, বিপুল ভোটের ব্যবধানেই আনারস  পাস করবে।

আনারস প্রার্থী মুশফিকুর রহমান খান বলেন, আমি কখনোই নৌকার বাইরের লোক নই। কিন্তু মমতাজ বেগম যাকে নৌকা দিয়েছেন দলের কেউ তাকে মেনে নিতে পারছেন না। এই হিসেবে জনগণ আমাকেই বেছে নিয়েছে এবং আমিই জয়ী হবো। নৌকার প্রার্থী শহিদুর রহমান বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা দিয়েছেন। তাই মমতাজ বেগম এমপির উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালবেসেই সকলেই আমাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবে।