ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কিত কৃষক

রাউজানে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১০

রাউজানে রোপা আমন চাষে অর্জিত হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবারের মৌসুমে রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের তেমন প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়নি। উপজেলায় রোপা আমনের বাম্পার ফলন হলেও স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা পায়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা। ফলে উত্পাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারের মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১০২৫ হেক্টর। এর মধ্যে স্থানীয় জাত ২০০ হেক্টর এবং উফসী জাত ১০৮২৫ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১১০৩০ হেক্টর। এদের মধ্যে স্থানীয় জাত ২০০ হেক্টর, উফসী জাত ১০৮১০ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাত ২০ হেক্টর। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৩৪৫৪০টি কৃষি পরিবারের ২৮১১৪ জন কার্ডধারী কৃষকদের মধ্যে প্রায় ১২৫০০ জন রোপা-আমন চাষে অংশ নেয়।

উপজেলার হলদিয়া, ডাবুয়া, হাজীপাড়া, মোহাম্মদপুর, বিনাজুরী, নাতোয়ন বাগিচা, পশ্চিম কদলপুর, মহামুনি, কোয়েপাড়া, পাঁচখাইনসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনে দেখা যায়, কোথাও কোথাও মাঠে আধা-পাকা ধান দোল খাচ্ছে, কোথাও পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত কৃষকরা। বাম্পার ফলনে কৃষকরা বেশ খুশি। স্থানীয়ভাবে দৈনিক চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে ব্যস্ত এমন কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হয়। তাদের মধ্যে পাহাড়তলী শেখপাড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ ইয়াসিন তালুকদার জানান, এবারের মৌসুমে তিনি প্রায় পাঁচ একর জমিতে রোপা-আমনের চাষ করেছেন। একর প্রতি তিনি ৫৫/৬০ মণ ধান ঘরে তোলার আশা করছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল ইসলামের পরামর্শে তিনি জমিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেছেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, একর প্রতি পাওয়ার টিলার খরচ ৬২৫০ টাকা, ধান মাড়াই একর প্রতি ১৭৫০ টাকা, প্রতি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫০০-৭০০ টাকা। এছাড়া সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য খরচ মিলে প্রতি একরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে বলে তিনি জানান। বেশি খরচের কারণে অনেক কৃষক চাষ করতে পারে না। কেউ কেউ চাষের শুরুতে মিলের মালিক বা ধান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধানের মূল্য বাবদ অগ্রিম টাকা নেয়। এ কারণে কৃষকদের অনেকেই পরে কম মূল্যে তাদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন। সরকার যদি প্রতি কেজি ত্রিশ টাকা দরে ধান সংগ্রহ করে তাহলে কৃষকরা তাদের ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিগত তথ্য ও পরামর্শমূলক সেবা প্রদান করেছি। এবারের মৌসুমে আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা অর্জিত হয়েছে। ফসলও ভালো ফলেছে। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা প্রকৃত দাম পায় না।

উপজেলার বিভিন্ন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভালো ফলন হলেও সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ না করলে ও ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া না গেলে কৃষকেরা লোকসানে পড়বে। এতে করে আগামীতে ধান চাষে আগ্রহ হারাবে অনেক কৃষক। বাড়তে পারে অনাবাদী জমির পরিমাণ।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বিদুর্শী চাকমা ইত্তেফাককে বলেন, কৃষকদের কাছ হতে ধান সংগ্রহের কোনো নির্দেশনা এখনো আসেনি। তাই, কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত নেই।