দুনিয়াজুড়ে কোটি কোটি শোকার্ত মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধায় নিজ শহর লুইভিলে শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে গতকাল শুক্রবার রাতে সমাহিত হলেন কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলি। স্থানীয় কেভ হিল সিমেট্রিতে দাফন করা হয় তাকে। তার কফিন বহনকারীদের মধ্যে ছিলেন অভিনেতা উইল স্মিথ এবং সাবেক মুষ্টিযোদ্ধা মাইক টাইসন ও লেনক্স লুইস।
মোহাম্মদ আলি গত শুক্রবার ৭৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনবারের হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ও দুনিয়াজুড়ে মানবাধিকারের জাগ্রত কণ্ঠ মোহাম্মদ আলিকে দাফনের আগে মোটর শোভাযাত্রায় তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার শহর লুইভিল প্রদক্ষিণ করে কফিনটি। প্রায় ১৯ মাইল দীর্ঘ ছিল এ শোকযাত্রা।
মোহাম্মদ আলি ও তার স্ত্রী দশ বছর আগে এ অন্তেষ্টিক্রিয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন যাতে সর্বস্তরের অনেক বেশি মানুষ এতে অংশ নিতে পারে। লুইভিলের রাস্তায় শবযাত্রায় রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান হাজার হাজার মানুষ। তাদের কেউ কেউ ‘আলি, আলি’ বলে চিত্কার করতে থাকেন। অনেকে আবার দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে তার কফিন বহনকারী কালো গাড়িটি ছুতে থাকেন। আবার অনেককে কফিন লক্ষ্য করে ফুল ছুড়ে দিতে দেখা যায়। শবযাত্রায় প্রায় ১৮ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে।
শব যাত্রায় ১৭টি গাড়িতে অংশ নেন আলির নয় সন্তান, তার স্ত্রী, দুই সাবেক স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। কেভ হিল সিমেট্রিতে দাফনের পর স্থানীয় সময় বিকেলে এক সর্বধর্মীয় প্রার্থনা সভার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে আলি দ্য গ্রেটেস্ট এর পার্থিব জীবনের।
ইসলামিক রীতি অনুযায়ী এর আগে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষের শোক ও শ্রদ্ধা জানাতেই আয়োজিত হয় এই সর্বধর্মীয় সভা ও শেষকৃত্য ও স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠান। তিনবারের হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। এর বাইরে সারা পৃথিবী থেকে আসা আরো অনেকে শোক জানিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। সে কারণে শোক জানিয়ে তিনি ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তা দেন।
এদিকে মোহাম্মদ আলির অন্তিম শয়ানের অনুষ্ঠানে আসা তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের নাম শোক বক্তৃতার তালিকা থেকে বাদ দেয়ায় রাগ করে দেশে ফিরে যান। এছাড়া তিনি আলির কফিনের উপর কাবা থেকে আনা এক টুকরো কাপড় দিতে চেয়েছিলেন যারও অনুমতি মেলেনি। একারণে ক্ষুব্ধ হন তিনি। তবে তুর্কি প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে দাবি করা হয়, অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক দেশে ফিরে এসেছেন এরদোয়ান।
