নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় মাকে অপহরণের ২২দিন পরে খুঁজে না পাওয়ায় ছেলে তারেক (১৮) বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনাল-১ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেতগাড়ি গ্রামের ভ্যানগাড়ি চালক আব্দুল খালেকের মেয়ে খালেদা বেগমের প্রায় ২০ বছর আগে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার মারমা (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে প্রায় আট বছর আগে স্বামী দেলোয়ার হোসেন বিদেশে যান।
মেয়ে খালেদার সংসারে তারেক (১৮), রজনী (১২) ও বিনা (১০) নামের তিন সন্তানের জন্ম হয়। দেলোয়ার হোসেন বিদেশ থেকে খালেদার নামে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার পাঠান। সেই টাকা-পয়সা স্বর্ণালংকার নিজ হেফাজতে নিয়ে নিজের নামে কিছু জায়গা জমিও ক্রয় করেন।
এ অবস্থায় খালেদার নামে থাকা জমি ও সম্পদের উপর নজর পড়ে প্রতিবেশী আলতাব হোসেনের ছেলে মো. শফিকুল ইসলামের (৩৮)। খালেদার স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে দীর্ঘদিন শফিকুল খালেদাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। খালেদা তাতে কর্ণপাত না করায় ১৮ মে গভীর রাতে শফিকুল তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে খালেদার ঘরে প্রবেশ করে এবং ঘরের আলমারিতে রাখা প্রায় ১১ লাখ টাকা মূল্যের জমির দলিল, প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় তিন-চার লাখ টাকাসহ খালেদাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজখুঁজি করেও আজ পর্যন্ত খালেদার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে ছেলে তারেক নিরুপায় হয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ।
তারেক হোসেন বলেন, ‘আমরা কোনো কিছু চাই না। আমরা তিন ভাই বোন আমাদের মাকে কাছে পেতে চাই। মায়ের অপহরণের ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ আজ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। তাই কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে আদালতের আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি।’
খালেদার বাবা আব্দুল খালেক বলেন, ‘বর্তমানে আমার মেয়ে কি অবস্থায় আছে এবং সে কি জীবিত না মৃত তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে দুটি পরিবারের লোকজন। আর মা-বাবা দুই জনকেই হারিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে খালেদার তিন সন্তান। অপহরণকারী শফিকুল ও তার পরিবারের লোকজন এই সন্তানদের হত্যা করে লাশ গুম করাসহ নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। যার কারণে তিন সন্তান ও স্বামীর পরিবারের লোকজন বর্তমানে ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ’
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন আজোও আমার মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেননি। তাই সঠিক বিচারের জন্য আমরা বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয়ে গিয়েছি।’
