পাবনায় ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সত্সঙ্গ আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে (৬২) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হাসান জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে অনুকূল আশ্রমের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক যুগোল কিশোর ঘোষ অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। তবে এ মামলায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। হত্যার ৩৭ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি। শনাক্ত করতে পারেনি হত্যাকারীদের।
পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানান, হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিকিল্পত হত্যার মতো দুর্বৃত্তরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। দেশকে অস্থীতিশীল ও মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড। ওই আশ্রমের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য বলাই কৃষ্ণ ঘোষ জানান, নিহত নিত্যরঞ্জন পান্ডে একদম সাদাসিধে, নির্লোভ, ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার সাথে কারো শত্রুতা ছিল না।
প্রসঙ্গত গত শুক্রবার ভোর ৫টার নিত্যরঞ্জন পান্ডে প্রাত:ভ্রমণে বের হলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নিত্য রঞ্জন পাণ্ডের মরদেহ জেলার সদর উপজেলার আড়ুয়া কংশুর গ্রামের বাড়িতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সমাহিত করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১১ টার দিকে সত্সঙ্গের ধর্মীয় আচার আচরণ মেনে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পাবনা সত্সঙ্গের কর্মী অনিশ চন্দ্র ঢালী, সত্সঙ্গের লাইব্রেরিয়ান ঋত্বিক হূদ্বিমান সাহা, পাবনা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল হাসান উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার মধ্যরাতে পাবনা থেকে পুলিশ পাহারায় তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়।
নিত্য রঞ্জন পান্ডের স্ত্রী দুলু রানী পান্ডে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ হত্যার বিচার চাই। আমার ছোট মেয়ে সন্দিপা পান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তার বিয়ে হয়নি। এখন স্বামী নেই। তাই তার বিয়ে নিয়ে আমার দুঃশ্চিন্তার শেষ শেষ নেই।
অন্যদিকে নিত্য রঞ্জন পান্ডে হত্যার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে গতকাল মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচরে সত্সঙ্গের পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এতে সত্সঙ্গের সদস্য প্রেম শুখ দত্ত, সুনীল বিশ্বাস, অমৃত ঢালী, শ্যামল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
