নিজ সন্তানদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে থানায় জিডি করেও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাবেক সেনা সার্জেন্ট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার।
জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের নরেরকাঠি গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার হাওলাদার ৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মুক্তিযোদ্ধা আঃ জব্বার হাওলাদার অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, বড় ছেলে সাইফুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় পুলিশে চাকরি দিয়েছি, ছোট ছেলে শফিকুল ইসলাম গার্মেন্টে কর্মরত। দুই মেয়েকে লেখাপড়া করিয়ে পাত্রস্থ করেছি। ২০১০ সালে দুরারোগ্য রোগে ভুগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সন্তানেরা বিউটি বেগম নামের বন্ধ্যা হতদরিদ্র নারীর সাথে তার বিয়ে দিয়েছে। তাদের সত্ মা সম্পত্তি লিখে নিতে পারে এমন আশঙ্কায় সন্তানেরা ২য় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সব সম্পত্তি তাদের নামে লিখে দিতে বলছে। তাদের হাত থেকে জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য গত ১২ মে দুই ছেলে ও মেয়ের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। এতে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ১৩ মে গভীর রাতে মারধর করে ধারালো অস্ত্র গলায় ঠেকিয়ে তাদের সত্ মাকে তালাক দিতে বাধ্য করে। এরপর তাদের নামে সম্পত্তি লিখে দিতে না চাইলে ওই রাতেই তারা তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। রাত পোহালেই সব সম্পত্তি লিখে দেওয়ার অঙ্গীকার করে সেই রাতে প্রাণ বাঁচান তিনি। ১৪ মে ভোরে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
১৫ মে বানারীপাড়া সোনালী ব্যাংক থেকে ৫২ হাজার টাকা তুললে ছেলেরা সেই টাকা সন্ত্রাসী দিয়ে মারধর করে ছিনিয়ে নেয়। পরে স্ত্রীকে নিয়ে বরিশাল মহানগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থান নেয়। সেখানেও পুলিশ ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে তাদেরকে অপহরণের চেষ্টা করে। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছেন বলে হয়রানির চেষ্টা করলে বিউটি বেগমকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন তিনি। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়ানো অসহায় আঃ জব্বার হাওলাদার সন্তানদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু নিজ সন্তানেরা এমনটি করতে পারে এ কথা কেউ বিশ্বাস না করায় সে পাচ্ছে না কোনো আইনী ও সামাজিক প্রতিকার।
