নওগাঁয় পুলিশের তালিকাভুক্ত একাধিক মামলার আসামি ও জেএমবির ৬ সদস্যসহ বিভিন্ন মামলার ৮৭জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকালে থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত জেলা ১১ উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা জেএমবিরা হচ্ছেন, রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার এলাকার আশরাফ খাজার ছেলে কাদের খাজা (৪৫) ও অপরজন আত্রাই উপজেলার তিলাবাদুড়ী গ্রামের নেছের আলীর ছেলে আবুল হোসেন (৩২), ধামইরহাট উপজেলার হযরতপুর গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে ময়েন উদ্দিন (৪৮), খেলনা গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মো. ওসমান আলী (৫২), জোত ওসমান গ্রামের মৃত নফির উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুল গফফার (৪৩), জয়পুরহাট জেলা সদরের মঙ্গলবাড়ী গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে আনিছুর রহমানকে (৩৬) ধামইরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ছাড়াও নিয়ামতপুর পুলিশ উপজেলার চৌরা সমাসপুর গ্রামের মৃত খিজরুল ইসলামের ছেলে শিবির ক্যাডার মো. কাইয়ুম (৩৮), মহাদেবপুর পুলিশ উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের ধনির উদ্দিনের ছেলে জামায়াত ইসলাম শ্রমিক কল্যাণ শাখার সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন (৪২) গ্রেফতার করে।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ খান জানান, ২০০৪ সালে রাণীনগর-আত্রাইয়ে সর্বহারা নিধন মানে বাংলা ভাইয়ের (জেএমবি) তান্ডব অর্থাৎ খুন, নিযার্তন, ঘর-বাড়ি লুটপাট করার সময় জেএমবির ক্যাডার কাদের খাজা সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, এলাকায় নাশকতা ঘটানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন কাদের খাজা। এমন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে উপজেলার বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তার থেকে দুটি ককটেল ও একটি বড় হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা আছে থানায়। এ ছাড়াও খাজা পুলিশের তালিকাভুক্ত জেএমবির সদস্য।
আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বদরুদোজ্জা জানান, আবুল হোসেন ২০০৪ সালে একই ভাবে বাংলা ভাইয়ের (জেএমবি) তান্ডবের সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিত জানা যায়, জেএমবি সদস্যদর নিয়ে এলাকায় নাশকতা ঘটানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন জেএমবির ক্যাডার আবুল হোসেন। এমন তথ্যর ভিত্তিত শনিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে এক অভিযান চালিয়ে তার নিজ গ্রামের বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় আবুল হোসেনের সমিল থেকে ১টি দেশীয় এলজি সাঁটারগান ও ২টি ১২ বোর বন্দুকের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে ।
পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বিপিএম, পিপিএম জানান, সাম্প্রতিক সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি রোধে এবং দেশের সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার ভোর রাত পর্যন্ত উগ্রবাদী, সন্ত্রাসী, জঙ্গি, জঙ্গি সংক্রান্ত মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, পলাতক, চার্জশিটভুক্ত আসামিসহ ৮৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর মধ্যে দুই জনের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
