দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে চীন কর্তৃপক্ষের আরো সহযোগিতার অঙ্গীকারের মধ্যদিয়ে রবিবার কুনমিংয়ে ৬ দিনব্যাপী চতুর্থ চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো (সিএনএ) এবং ২৪তম চায়না কুনমিং ইমপোর্ট এ্যান্ড এক্সপোর্ট পণ্যের মেলার উদ্বোধন হয়েছে।
ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের দিয়ানচি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন এ্যান্ড এক্সিবিশিন সেন্টারের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ মেলা শুরু হয়। অনুষ্ঠানের হলরুম চীনের বিভিন্ন প্রদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ ছিলো। এদের মধ্যে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ সংযোগ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝং গাওল উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, 'চীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য শিল্প সক্ষমতা তৈরী। এ কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগে (এফডিআই) চীন একটি প্রধান উৎস হয়ে উঠছে।'
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদারে চীন এবং দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে কুনমিং মেলা ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে ঝং গাওল বলেন, 'বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানে বেশীর ভাগ অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ খাতের মতো বিভিন্ন দেশে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে চীন ইতোমধ্যই আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন দৃঢ় অঙ্গীকার প্রদর্শন করেছে।'
তিনি সংশ্লিষ্ট সকল দেশকে তাদের ভিসা এবং কাস্টমস কার্যক্রম সহজতর এবং দেশগুলোর মধ্যে আরো সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরামর্শ দিয়ে বলেন, এটি ব্যবসা-বাণিজ্যের সহায়ক হবে, পাশাপাশি ট্যুরিজমের প্রসার ঘটছে।
এ বছরের মেলার লক্ষ্য হচ্ছে সহাবস্থান, আন্তরিকতা, পারস্পারিক স্বার্থ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সবার জন্য লাভজনক সহযোগিতা নীতিতে চীন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
চতুর্থ চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে বিশ্বের ৭২টি দেশ থেকে প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। দক্ষিণ এশিয়া থেকে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা এবং নেপাল মেলায় অংশ নিয়েছেন।
মেলায় মোট ১৮টি প্রদর্শনী প্যাভিলিয়ন রয়েছে। ৮ হাজার বুথে প্রায় ৫ হাজার প্রদর্শক আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত ৬ দিন তাদের পণ্য প্রদর্শন করবেন। মেলার প্রদর্শনে ৭৪ হাজারের বেশী টিকেট ইতোমধ্যেই বিক্রি হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি কো-অপারেশন ফোরাম, চায়না-সাউথ এশিয়া বিজনেস ফোরামের মতো প্রতিষ্ঠানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন এবং অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মায়ানমারের (বিসিআইএম) চেম্বার ফেডারেশনগুলো বৈঠক করবে।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদল মেলার পাশাপাশি অন্যান্য ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন।
