গোদাগাড়ী উপজেলার সাহাব্দিপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাইয়ের বাড়ি ভাঙচুর করে লুটপাট করেছে সন্ত্রাসীরা। গত শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ১০/১২ জনের সন্ত্রাসী দল লাঠিসোঁটা নিয়ে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা মুক্তিযোদ্ধার ভাই আকবরের বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। দু’টি বাড়ির চাল, টাকা, ছাগল, গরুসহ বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে সন্ত্রাসীরা বলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা উপজেলার ভাটোপাড়া কদমহাজীর মোড় এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য লিটন ও ফিরোজ সরকার ঘটনাস্থলে এসে নির্দেশ দিলে সন্ত্রাসীদের তাদের বাড়িঘরে তাণ্ডব চালায়।
মুক্তিযোদ্ধার ভাই আকবর বলেন, তাদের বাড়িঘর নির্মাণের আগে এই সড়ক ও জনপদের জমিটি মোয়াজ্জেম ড্রাইভার নামে এ ব্যক্তির দখলে ছিল। তারা এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ছয় কাঠা জমির দখল স্বত্ব ক্রয় করে মোয়জ্জেম ড্রাইভারের কাছ থেকে। বাড়িঘর নির্মাণের সময় কেউ তাদের বাধা দেয়নি। অথচ ১০ বছর পর মসজিদের জমির জন্য রাস্তা করার নামে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটপাটে বাধা দিতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় আকবরের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম, তার ছেলে হাসান, তারিক গুরুতর জখম হয়। আহত তিনজনকে গোদাগাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও তার ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
সাবেক মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য লিটন বলেন, ভাটোপাড়া মসজিদের নামীয় জমি দখল করে বাড়ি তৈরি করেছে মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক ও তার ভাই আকবর। তাদেরকে বাড়িঘর সরিয়ে নিতে বলা হয়। কিন্তু বাড়িঘর সরিয়ে না নিয়ে ভাটোপাড়া মসজিদের মুসল্লীরা গিয়ে মসজিদের জমি দখলমুক্ত করে। ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি বলে সাবেক ইউপি সদস্য দাবি করেন। গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএম আবু ফরহাদ বলেন, ভাঙচুরের খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে মামলা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
