পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে এবার করতকান্দি হিন্দু পাড়ায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার রাত ১২টার দিকে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম মাস্টারের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। তিনি ওই পাড়ার বাসিন্দা। একই সময় করতকান্দি মিসমেথুইর হিন্দু পল্লির নরেশ মাস্টার ও লিখন চন্দ্রের বাড়িতেও দুর্বৃত্তরা ডাকাতির চেষ্টা চালায়। কিন্তু গ্রামবাসীর ধাওয়ায় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র ও বন্দুক নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম মাস্টারের বাড়ির ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করে । ঘরে নগদ টাকা বেশি নাই কেন এ কথা বলে তারা আবুল কাশেমকে মারপিট শুরু করে। এ সময় তার বড় মেয়ে ফাতেমা খাতুন (শিক্ষিকা) ও অন্যান্য সন্তান বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সবাইকে এক ঘরে আটক রেখে বেদম প্রহার করে দুর্বৃত্তরা। এতে পরিবারের পাঁচ সদস্য আহত হন।
আহত ফাতেমা খাতুন জানান, একজন দুর্বৃত্ত তার বাবার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে হজে যাওয়ার জন্য গচ্ছিত টাকা বের করে দিতে বলে অন্যথায় তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। হজের টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার রশিদ দেখানোর পর দুর্বৃত্তরা নগদ ১৫ হাজার টাকা ও ছয় ভরি স্বর্ণের গহনা লুটে নিয়ে যায়।
তিনি জানান, তারা বেশির ভাগ উঠতি বয়সের যুবক। মুখোশধারী বলে কাউকে চেনা যায়নি।
অন্যদিকে একই সময় করতকান্দি মিসমেথুইর হিন্দু পল্লির নরেশ মাস্টার ও লিখন চন্দ্রের বাড়িতেও দুর্বৃত্তরা ডাকাতির চেষ্টা চালায়। তবে আগের দিন শনিবার প্রতিবেশী গোপেন্দ্র নাথ ভৌমিকের বাড়ি ডাকাতির ঘটনায় ওই পল্লির বাসিন্দারা সজাগ থাকায় দুর্বৃত্তদের ডাকাতিচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু জাফর তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘গভীর রাতে সঙ্গীয় ফোর্সসহকারে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং গ্রামবাসীদের সমন্বয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেন। তবে ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।’
