রাজধানীর ইউএন রোডস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের নিউ ট্যান্সারি কমপ্লেক্সে চলছে 'ঈদ ভিসা ক্যাম্প'। গত ৪ জুন থেকে শুরু হওয়া ক্যাম্পে আগ্রহীদের উপচে পড়া ভীড় দেখা যাচ্ছে।
শুরুর দিন থেকেই প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৮ হাজার লোক পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন, যার প্রায় ৫০ শতাংশের উপরে নারী ও শিশু। তাদের ভিসা প্রদান করতে ভারতীয় হাইকমিশন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এই ক্যাম্প চলবে আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত। ভারতে যেতে ভিসা বিড়ম্বনার শিকার কাউকে যেন না হতে হয়, সেজন্য ঈদ উপলক্ষ্যে এই ভিসা দিচ্ছে ভারতীয় হাইকমিশন।
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পাসপোর্ট গ্রহণ করা হচ্ছে। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে লাইনে দাঁড়ানো লোকদের ছায়ার জন্য বৃষ্টিরোধক ত্রিপল দেয়া হয়েছে। তবে হাজার হাজার লোকের জন্য ওই ত্রিপল ছিল সামান্যই।
লাইনে দাঁড়ানো লোকদের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ দেখা গেলেও অনেকেই হাসিমুখে জানিয়েছেন, এ ব্যবস্থায় তারা খুশি।
ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, মানুষের আগ্রহের কারণে পাসপোর্ট গ্রহণের সময় বাড়িয়ে দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত করা হতে পারে। সোমবার ভারতীয় হাইকমিশনের চলমান 'ঈদ ভিসা ক্যাম্প' বিষয়ে হাইকমিশনের নিউ চ্যান্সারি কমপ্লেক্সে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অপূর্ব একটি সম্পর্ক রয়েছে। দু দেশের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন রয়েছে। ঈদ ভিসা ক্যাম্প চালুর মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষকে কীভাবে আরও বেশি ভিসা প্রদান করা যায়, তার সূচনা করা হল। ভবিষতে এমন ক্যাম্প আরও করা হবে।
তিনি বলেন, প্রায় ৫০ শতাংশ ভিসা নারী ও শিশুরা পাচ্ছেন। ক্যাম্পে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পাসপোর্ট জমা ও ভিসা প্রদান করা হচ্ছে। এবার এ ক্যাম্পের মাধ্যমে ৬০ হাজারেরও অধিক ভিসা প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী ভিসা প্রদানে আরও পদক্ষেপ নেয়া হবে জানিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এ ক্যাম্প শেষ ক্যাম্প নয়, সামনে আরও বিশেষ ভিসা ক্যাম্প করা হবে। ঢাকাতে, ঢাকার বাইরেও এমন উদ্যোগ নেয়া হবে। বাংলাদেশের মানুষ যাতে কোনো জটিলতা ছাড়াই ভিসা পেতে পারেন, তার সকল ব্যবস্থা করা হবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার আদর্শ সোয়াইকা, সহকারী হাইকমিশনার (রাজশাহী) অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দ্বিতীয় সচিব মনুস্মৃতি, হাইকমিশনের প্রেস অ্যাটাশে রঞ্জন মন্ডল প্রমুখ।
