বন্দরে হুজি প্রধানের সহযোগী গ্রেফতার

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৬, ২৩:২৮
বন্দরে আবারো গ্রেফতার হয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাত-উল-জিহাদ আল-ইসলামী(হুজি)’র বাংলাদেশ অপারেশন কমান্ডার খায়রুল বাশার ওরফে ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ইব্রাহীম বর্তমান হুজি’র প্রধান সালাহউদ্দিনের অন্যতম সহযোগী বলে পুলিশ জানায়।
গতকাল রোববার রাতে থানার সালেহনগরস্থ নতুন জামে মসজিদ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ইব্রাহিম সালেহনগর নতুন জামে মসজিদের পেশ ইমাম। ইব্রাহিমের গ্রেফতার প্রসঙ্গে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল কালাম জানান, জঙ্গি-জামায়াতের সাঁড়াশী অভিযানের অংশ হিসেবে খায়রুল বাশার ওরফে ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এদিকে, শহরে  অনেক স্থানে কিছু মৌসুমি রিকশা চালকের আর্ভিভাব ঘটেছে। এদের চলাচল ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক হলেও এদের বিরুদ্ধে সদর থানা পুলিশ অনেকটা নিরব ভূমিকা পালন করে আসছে। অভিযোগ উঠেছে প্রকৃত জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করে নিরিহ মানুষকে হয়রানী করা হচ্ছে।
উল্লখ্য, এর আগেও ইব্রাহিমকে ২০১৪ সালের ৮ নভেম্বর ওই একই মসজিদ হতে রাজধানী ঢাকা দক্ষিণ মহানগর গোয়েন্দা(ডিবি)পুলিশ গ্রেফতার করে। সে সময় গোয়েন্দার কাছে তথ্য ছিল সে হরকাত-উল-জিহাদ (হুজি)বাংলাদেশ এর অপারেশন উইং লিডার। সুদূর পাকিস্তান হতে উচ্চতর জঙ্গি প্রশিক্ষণ ‘‘এ্যাটাক অন সফট এন্ড হার্ড টার্গেট’ নিয়ে বাংলাদেশে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। গ্রেফতারের ৪৭দিন জেল খাটার পর ঢাকার ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক কে.এম ইমরুল কায়েশ আদালতের একজন আইনজীবি ও স্থানীয় একজন জমিনদারের জিম্মায় ৩০ হাজার টাকা মুচলেকায় তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ইব্রাহিম পাকিস্তানের একটি গোপন আস্তানায় অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের কাছ থেকে বোমা তৈরি, বোমা স্থাপন, বিস্ফোরণ, নানা প্রকার সমরাস্ত্র ব্যবহারিক কারিকুলাম, যে কোন অপারেশনে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণেরও প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। তৎসময় ইব্রাহিমকে ধরা হয় হরকাত-উল-জিহাদ এর অপরাপর সদস্য রফিকসহ আরো ৪ সহযোগীর প্রদত্ত তথ্যানুাযায়ী। ওই অভিযানে রফিক ও তার ৪সহযোগীর কাছ থেকে পুলিশ বেশ কিছু বোমা তৈরির উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক পদার্থ উদ্ধারসহ দু’টি ল্যাবরেটরীও আবিস্কার করা হয়। একই সময়ে ভারতে আটক পুরস্কার ঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ(জেএমবি)শীর্ষ জঙ্গি সাজিদ ওরফে শেখ রহমতউল্লাহ ওরফে মাসুমের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তার ভাই মনাসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতর করা হয়। পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের কয়েক দফা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেও তেমন কোন সুফল বয়ে আনতে পারেনি। যে কারণে সহসাই দ্রুত জামিনে বেরিয়ে ফের ঘুরে দাড়াতে শুরু করে জঙ্গি সদস্যরা।
গোয়েন্দা সূত্রে জানিয়েছে,২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর হুজি’র উর্দ্ধতন নেতা ও বোমা বিশেষজ্ঞসহ ৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখন বোমা তৈরি ও উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক পদার্থ নিয়ে গবেষণার কাজে দু’টি ল্যাবরেটরীর সন্ধান পাওয়া যায়। যার একটি ল্যাব ছিল ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকায় অপরটি একই থানাধীন ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল এলাকার ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয় আমতলী মসজিদের ইমাম ছিলেন রফিক আহমেদ ও রবি ছিলেন বক্তাবলী এলাকায় স্থাপত্যগোপন বোমা তৈরির ল্যাব প্রধান।
জঙ্গি ওরফে রবি বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যত বোমা বিশেষজ্ঞ ধরা পড়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য বলে জানা গেছে। প্রাইম ইউনিভার্সিটি’র রসায়নের শেষ বর্ষের ছাত্র মোঃ ওমর ওরফে ফয়জুল ওরফে রবিকে শুধু বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলায় নয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাহরীর, জেএমবি,আল্লাহর দলসসহ কয়েকটি উগ্র মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠনের সমন্বয়ে বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ নামে একটি সংগঠন সৃষ্টি করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন গ্রেফতার হওয়া ইব্রাহিম।
ইব্রাহিম ছাড়াও বর্তমানে জঙ্গি সদস্যদের অনেকেই নানা ছদ্মাবরণে নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থান করছে। কেউ কেউ রিকশা চালক হিসেবে গ্যারেজে গ্যারেজে কেউবা কাঁচামাল বিক্রেতা কেউবা আবার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে নানা পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে সুক্ষ্ম অভিযান অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।