খুলনা মহানগরীতে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগে নগরবাসী

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৬, ০১:২৪
সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘ সময়ের জন্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে খুলনা মহানগরীতে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি ও বাসা-বাড়িতে ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ পানি ঢুকে পড়ায় চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। কিন্তু এই পানি অপসারণে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) বাস্তবমুখী কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে, কেসিসি’র ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিসুর রহমান বিশ্বাস বলেছেন, অচিরেই এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
 
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. আমিরুল আজাদ জানান, গত শনিবার মধ্যরাত থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত খুলনায় ২৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া খুলনায় শনিবার রাত দেড়টা থেকে রবিবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অবিরাম বজ্রপাত হয়। এর আগে এ অঞ্চলে কখনো এমন দীর্ঘ সময় বজ্রপাত হয়নি বলে তিনি জানান। বয়স্ক অনেক মানুষও একে ‘বজ্র ঝড়’ বলে উল্লেখ করেন। এদিকে, সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর পিটিআই মোড়, শিববাড়ি মোড়, রয়্যাল মোড়, শান্তিধাম মোড়, সাতরাস্তা মোড়, জোড়াগেট, তেঁতুলতলা মোড়, কেডিএ এভিনিউ, খলিল চেম্বারের মোড়, ফরাজীপাড়া এলাকা, দিলখোলা রোড (মরিয়ম মসজিদ), আহসান আহমেদ রোড, সিমেট্রি রোড, কেডিএ এ্যাপ্রোস রোড, সোনাডাঙ্গা মেইন ও সোনাডাঙ্গা ক্রস রোডসহ খালিশপুর, বসুপাড়া, বানরগাতী, গল্লামারী, বয়রা, মুজগুন্নি, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকার বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ পানি বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ফলে বৃষ্টি হলেই চরম দুর্ভোগে পড়ছেন নগরবাসী।
 
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কঞ্জারভেন্সি বিভাগ সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীতে ১ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। এসব ড্রেনের বর্জ্য ও পানি নগরীর সীমান্তবর্তী ৩৪টি খালে গিয়ে পড়ে। সেখান থেকে পানি চলে যায় নদীতে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম এই খালগুলোর ২৫টিতেই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বাঁধ ও পাটা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পলি পড়ে ও কচুরিপানার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে এসব খাল। যার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কেসিসির জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু বলেন, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী খালগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই স্থানীয় সংসদ সদস্য, খুলনা জেলা প্রশাসন, কেএমপি প্রতিনিধি ও নাগরিক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
 
কেসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিসুর রহমান বিশ্বাস বলেন, খুলনা মহানগরীর ড্রেনগুলো তুলনামূলক ছোট ও সেকেলে। তা ছাড়া, বৃষ্টিপাতের সময় যদি নদীতে জোয়ার থাকে তখন বৃষ্টির পানি অপসারিত হতে একটু সময় লাগে। জোয়ারের সময়ে যাতে নগরীর পানি নদীতে ফেলা যায় সে জন্য ট্যাম্পিং প্রকল্প হাতে নিয়েছি।