কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের বলি সৌদী প্রবাসী ময়নাল হোসেনের মরদেহ সাড়ে সাত মাস পর উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে একটার দিকে আদালতের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকোট ইউনিয়নের জাড্ডা হাহাতি গ্রামের একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
২০১৫ সালের ১ নভেম্বর রাতে ওই প্রবাসীর স্ত্রী তাছলিমার ভাড়াটে খুনিরা তাকে হত্যার পর মরদেহ খালের ৪-৫ ফুট মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিল।IMG0
মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ায় ঘটনাস্থলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. আলী আশ্রাফ ভূঁইয়া, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী আজগর, জেলা ডিবির ওসি একেএম মনজুর আলম, বাঙ্গরা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই প্রবাসীর দুই ঘাতক বদি ডাকাত ও বাবু মিয়া সেখানে উপস্থিত ছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেয়া হবে। সেখানে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড প্রবাসী ময়নালের মরদেহের ময়নাতদন্ত করবে।
তিনি আরো জানান, চলতি বছরের ১২ জুন রবিবার কসবা থেকে প্রবাসী ময়নালের ঘাতক মুরাদনগর উপজেলার জাড্ডা গ্রামের বদি আলম ওরফে বদি ডাকাত (৩৫) এবং একই উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের বাবু মিয়াকে (২৫) গ্রেফতারের পরই মরদেহটি কোথায় গুম করা হয়েছে সেই স্থানটি দেখিয়ে দেন। মরদেহ উদ্ধারে রবিবার আদালতে আবেদন করা হয়। বিচারক মরদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত করতে ফরেনসিক বিভাগকে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়।IMG1
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর ময়নাল হোসেন দেশে আসার পর শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করে। এ সময় বিদেশে থেকে পাঠানো অর্থের হিসাব চায় ময়নাল। পাশাপাশি স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ দেখা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ময়নালকে খুন করতে তার স্ত্রী ছয় সন্ত্রাসীকে পাঁচ লাখ টাকায় ভাড়া করে। পরিকল্পনা মোতাবেক ১ নভেম্বর রাতে তিন লাখ টাকা পরিশোধ করার পর সন্ত্রাসীরা কৌশলে ওই প্রবাসীকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে বাড়ির অদূরে খাল পাড়ে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ সেখানে ফেলে দেয়।
৭ নভেম্বর ‘ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরেননি’ মর্মে মুরাদনগর থানায় স্বামী নিখোঁজের একটি জিডি সাজান। পরবর্তীতে ময়নল হোসেনের মা আমেনা খাতুন ৮ ডিসেম্বর বাদী হয়ে কুমিল্লা আদালতে স্ত্রী তাসলিমাসহ সাতজনকে আসামি করে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখার অভিযোগে একটি মামলা করেন।
চলতি বছরের ৮ মার্চ কুমিল্লা নগরী থেকে মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম নিহতের স্ত্রী তাছলিমাকে গ্রেফতার করার পরই তার স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে হত্যার চাঞ্চল্যকর কাহিনী। পরদিন গ্রেফতার করা হয় তাছলিমার প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে। গত ১০ মার্চ নিহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর পরই ডিবি পুলিশ অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে। বর্তমানে এই মামলায় কারাগারে আটক রয়েছে ওই প্রবাসীর স্ত্রী তাছলিমা আক্তার, তার নিকটাত্মীয় জাকির, জুয়েল ও পরকীয়া প্রেমিক শরিফুল ইসলাম। সর্বশেষ ১২ জুন গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থেকে গ্রেফতার করা হয় অন্যতম ঘাতক ও মরদেহ খালে গুমে জড়িত বদি আলম ও বাবু মিয়া।
