রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের দাবিকৃত ভ্যাটে ভ্যাটদাতার আপত্তি থাকলে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য এতদিন দাবিকৃত ভ্যাটের ১০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে আপিল করা যেত। প্রস্তাবিত বাজেটে এটি চারগুণ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর ফলে তাদের বাড়তি অর্থ গুণতে হবে। সেই সঙ্গে পরোক্ষভাবে ভ্যাট কর্মকর্তাদের কর্তৃত্বও বাড়িয়ে দেয়া হলো। এখন থেকে ভ্যাট মূল্যায়নকালে তারা ইচ্ছেমত অর্থ নির্ধারণ করবেন।
তবে এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা আপিলের সুযোগ নিয়ে বছরের পর বছর সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করে আসছেন। ট্রাইব্যুনালে আপিল করার ক্ষেত্রে মাত্র ১০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের বিধান থাকায় তারা এনবিআর কর্মকর্তাদের যে কোন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করতো। আপিলকালে তুলনামূলক কম অর্থ পরিশোধ করতে হতো বিধায় আইনের মধ্যে থেকেই তারা এ কাজটি করতে উৎসাহিত হতো। ফলে যথাসময়ে সরকারের ঘরে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আসতো না।
এনবিআরের হিসাবে আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ ধরণের বিরোধে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আটকে রয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ১৫ হাজারের কাছাকাছি। প্রতি বছর সরকার এ অর্থ আদায়ে উদ্যোগ নিলেও এতে খুব একটা সুফল মিলছে না। অন্যদিকে মামলার সংখ্যা না কমে উল্টো বছর বছর বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জট কমানোর স্বার্থে মামলায় নিরুৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে ভ্যাট বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান।
