আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, 'বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। সে জন্যই বিএনপি-জামায়াত জোট দেশে গুপ্ত হত্যা চালাচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'তারা দুই একটি গুপ্ত হত্যা করে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলকে ভয় দেখাতে চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ ভয় পাওয়ার দল নয়।' নাসিম মঙ্গলবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলা করাতিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ১৪ দল আয়োজিত সমাবেশে এই কথা বলেন। দূর্বত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গলী হত্যার প্রতিবাদ ১৪-দল এই সমাবেশের আয়োজন করে।
এদিকে নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইরফান আলীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন , জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. নীমচন্দ্র ভৌমিক, ন্যাপ নেতা এডভোকেট এনামুল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এমপি, আনোয়ারুল আজিম আনার এমপি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, 'বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করে জ্বালাও পোড়াও করে মানুষ হত্যা মানুষ হত্যা করলো। এবার জামায়াত শিবিরের লোকজন দিয়ে বিএনপি নেত্রী গুপ্ত হত্যা করাচ্ছেন। তাদের কোন চক্রান্তই সফল হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অতীতে যেমন আগুন সন্ত্রাসের জবাব দিয়েছে, বর্তমান ও ভবিষ্যতেও সকল গুপ্তহত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচার করবে।'
রাশেদ খান মেনন বলেন, 'নিরাপরাধ সংখ্যালঘু হত্যা করে কা-পুরুষের পরিচয় দিয়েছে বিএনপি জামায়াত। তিনি যত দ্রুত সম্ভব এসব হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানোর আশ্বাস দেন।'
হত্যার হুমকি দিয়ে পাঠানো কাফনের কাপড়ের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, 'মৃত্যুর হুমকি দিয়ে লাভ নেই। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। একদিন না একনি তো আমাকে মারা যেতেই হবে। কাফনের কাপড় আগেই পাঠিয়েছে। কাপড়টি থাকলো, কাজে লাগবে।'
উল্লেখ্য গত ৭ জুন মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের সোনাইখালীর মাঠের মধ্যে মহিষা ভাগাড় নামক স্থানে আনন্দ গোপাল গাঙ্গলী (৭০) নামের এই হিন্দু পুরোহিতকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা সোনাইখালী মন্দিরের পুরোহিত ছিল।
