বেসিস নির্বাচনে এগিয়ে আসছে তরুণরা

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৬, ১৯:৪৭
দেশের সফটওয়্যার খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেসের (বেসিস) ২০১৬-১৯ মেয়াদে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন হবে। আগামী ২৫ জুন নির্বাচনে দুটি প্যানেলে ১৮ জন ছাড়াও ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।
 
আনন্দ কম্পিউটার্সের স্বত্বাধিকারী বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি মোস্তাফা জব্বারের নেতৃত্বে ডিজিটাল ব্রিগেড প্যানেলে রয়েছেন ফারহানা এ রহমান (ইউওয়াই সিস্টেমস), রাসেল টি আহমেদ (টিম ক্রিয়েটিভ), এম রাশিদুল হাসান (সিস্টেক ডিজিটাল) মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল (অ্যাডভান্স ইআরপি), একেএম আহমেদুল ইসলাম (এটম এপি), রিয়াদ এস এ হুসেইন, (ম্যাগনিটো ডিজিটাল), দেলোয়ার হোসেন ফারুক (রেডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস)। সহযোগী সদস্য ক্যাটাগরিতে রয়েছেন উত্তম কুমার পাল (বস্ট বিজনেস বন্ড)। এর মধ্যে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটিতে দায়িত্বে রয়েছেন রাসেল টি আহমেদ, এম রাশিদুল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান ও উত্তম কুমার পাল।
 
মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশিরের নেতৃত্বে 'দ্যা চেঞ্জ মেকারস' প্যানেলে রয়েছেন মোস্তফা রফিকুল ইসলাম (ফ্লোরা টেলিকম), সৈয়দ আলমাস কবীর (মেট্রোনেট বাংলাদেশ), সুফি ফারুক ইব্ন আবুবকর (ইভাটিক্স), আজমল হক আজিম (ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিসেস), নাজমুল করিম চৌধুরী (গণনা টেকনোলজিস), সাবি্বর রহমান (থার্ড বেল এন্টারটেইনমেন্ট), ছাইদুল ইসলাম মজুমদার (মজুমদার আইটি) এবং সহযোগী সদস্য পদপ্রার্থী জামান খান (জামান আইটি)।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হলেন রাশাদ কবির। যশোরের এই তরুণ ড্রিম ৭১ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন ২৪ বছর বয়সী রাশাদ। বয়সে সর্বকনিষ্ঠ বলে তাকে নিয়ে সব বয়সই ভোটারদের মধ্যেই রয়েছে বেশ আগ্রহ।
 
ইচ্ছে তরুণদেরকে নিয়ে নির্বাচন করবেন তিনি। বর্তমান কমিটির কোনো ব্যর্থতা তার চোখে না পড়লেও তিনি মনে করেন এই কমিটির সবাই বেশ অভিজ্ঞ এবং তরুণদের সঙ্গে তাদের বয়সের ব্যবধান একটু বেশি। এ কারণে তরুণরা সবসময় অনুকূল পরিবেশ পান না। 
 
তিনি বলেন, অন্তত ২ জন তরুণ এই নির্বাহী কমিটিতে থাকা উচিত। তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করতেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।
 
এছাড়াও বর্তমানে ফ্রিল্যান্সারদের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এতে করে ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠছে না। নির্বাচিত হলে এই বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখবেন বলে জানান রাশাদ কবির।
 
ফ্রিল্যান্সারদের প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের শুধু প্রশিক্ষণই যথেষ্ঠ নয়। আমাদের আসলে প্রোডাক্ট তৈরি করা প্রয়োজন। ফেসবুক, গুগল, টুইটার সবই তো নতুন প্রোডাক্ট। নতুন উদ্ভাবনী কিছু না করলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ টিকে থাকতে পারবেনা।
 
এছাড়া মার্কেটিং বিষয়টিও খুব জরুরি বলে উল্লেখ করেন রাশাদ। তিনি বলেন, মার্কেটিং ছাড়া কোনো কিছুই সবার কাছে পৌছে দেয়া সম্ভব নয়। শুধুমাত্র দক্ষ আইটি প্রোগ্রামার তৈরী করলেই হবে না, দক্ষ আইটি মার্কেটিং প্রফেসনালসও সমান হারে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। তাই এই বিষয়টিও নজর দেয়া জরুরি। নির্বাচনে জিতলে এসব কিছু নিয়েই কাজ করবেন বলে জানান রাশাদ।
এমনই আরেকজন তরুণ নাজমুল করিম চৌধুরী। গণনা টেকনোলজিস এর কর্ণধার নির্বাচনে লড়ছেন সোনিয়া বশির কবিরের চেঞ্জমেকার প্যানেল থেকে। নির্বাচনে জিতলে তাদের মূল পরিকল্পনা হিসেবে কি থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এক হাজার ঘণ্টার এক কর্মসূচির কথা। এই সময়ে তারা বেসিসের সহস্রাধিক সদস্যের কাছে যাবেন এবং তাদের সমস্যার কথা শুনবেন। কিছু কিছু সদস্য তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেন নি। তাদের সমস্যার কথাও শুনবেন এই প্যানেল।
 
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য নতুন ইনস্টিটিউট গঠনের পক্ষে আমি নই। তার চেয়ে যেই বিশ্ববিদ্যালয় গুলো তথ্য প্রযুক্তি পড়ানো হয়। তাদের পাঠ্যপুস্তকে এমন কিছু যোগ করা যায় কিনা যেটা বর্তমান সময়ে বেশি কাজে লাগবে। এমন কিছুর সমন্বয় করাটা বেশি উপযোগী হবে।
 
বেসিসের কমিটিতে তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে নাজমুল করিম বলেন, তারুণ্য আসলে বয়সে নয়, এটা মানসিক ব্যাপার। আমরা অবশ্যই চাই নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে নতুনরা এগিয়ে আসুক। আমরা আমাদের প্যানেল সেভাবেই তৈরি করেছি।
 
বর্তমান কমিটির কোনো কমিটির ব্যর্থতা তার চোখে না পড়লেও কিছু কিছু চ্যালেঞ্জে কমিটির আরো কিছু করার ছিলো বলে মনে করেন তিনি। সদস্যের সব কাজে সম্পৃক্ত করতে না পারাটা তার মধ্যে অন্যতম বলে মনে করেন তিনি।
অনেকটা একই রকম ধারণা পোষণ করেছেন ডিজিটাল ব্রিগেড প্যানেলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য রিয়াদ এস এ হুসেইন। তিনিও মনে করেন বেসিসের সদস্যদের চাওয়া-পাওয়া জানা দরকার। ৩৩ বছর বয়সী এই তরুণ ম্যাগনিটো ডিজিটাল এর কর্ণধার।
 
বর্তমান কমিটি নিয়ে তিনি বলেন, গত ৩-৪ বছর নয়, ২০ বছর ধরেই বেসিস খুব ভালো কাজ করছে। সরকার এখন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ’র মতো বেসিসকে গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্বাচিত হলে এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান বলে জানান তিনি।
 
কমিটিতে তরুণদের অংশগ্রহণ কম কেন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এজন্যই তিনি এগিয়ে এসেছেন। তরুণদের নিয়ে তার আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবেন রিয়াদ।
 
তিনি বলেন, সবকাজে তাদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে চাই। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলেই বেসিস এগিয়ে যাবে।