এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা সৃষ্টিশীল মাধ্যমে প্রভাব ফেলবে—এটাই স্বাভাবিক। মুক্তিযুদ্ধের সেই গল্পের কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে জানাতে প্রতিবছরই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নির্মিত হয় বেশকিছু নাটক ও টেলিফিল্ম, যা সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো প্রচার করে থাকে। এবারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নির্মিত দুইটি বিশেষ নাটক নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ
যুদ্ধ দিনের প্রেম
শাহাদাত যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে সীমান্ত পার হয়েছিল। এরমধ্যে সে খবর পায় তার প্রিয় শিক্ষক নিশানাথ বাবু ঢাকা থেকে বর্ডারের দিকে আসছিলেন। হঠাত্ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এক উপশহরে আশ্রয় নিয়েছেন। শাহাদাত ক্যাম্প থেকে ছুটি নিয়ে সীমানা পার হয়ে তার কাছে আসে। সে ঠিক করে, যে করেই হোক, স্যারকে নিয়ে বর্ডার পাড় হতে হবে। নিশানাথ বাবু রাজি হন না। ট্রেনিং রেখে তার ছাত্র এখানে পড়ে থাকবে এটাও তিনি চান না। তিনি শাহাদাতকে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেন। গ্রামের পথ ধরে যাওয়ার সময় কয়েকটা লোক শাহাদাতের পথ আটকায়। শাহাদাত বুঝতে পারে তারা আলবদর বাহিনীর। শাহাদাতের জামার ভিতরে রাইফেল লুকানো। ছেলেগুলো শাহাদাতকে জেরা করতে শুরু করে। দূর থেকে রাসেল নামের এক তরুণ তাকে দেখতে পায়। আলবদরের ছেলেরা শাহাদাতকে জেরা করছে দেখে রাসেল এগিয়ে গিয়ে বলে, ‘আরে শাহাদাত ভাই, তোমারে না বলছি এদিক সেদিক না যাইতে। বদর বাহিনীর কাছে শাহাদাতকে নিজের বড় বোনের স্বামী বলে পরিচয় দিয়ে বলে ঢাকায় বিয়ে হয়েছে। কিন্তু আলবদরের ছেলেগুলোর কেমন একটু সন্দেহ থাকে। বাড়িতে নিয়ে গেলে রাসেল জানতে পারে শাহাদাত মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছে। তার সঙ্গে অস্ত্রও আছে। বাড়ির বাইরে বদর বাহিনীর একটা ছেলেকে নজর রাখতেও দেখা যায়। রাসেল তার বাবা মা ও বোনকে বিষয়টা খুলে বলে। বাবা বলে তাহলে তো এই মুহূর্তে ছেলেটার এখান থেকে যাওয়া ঠিক হবে না। রাসেলের বড় বোন কাজলের সঙ্গে শাহাদাতের পরিচয় হয়। কয়েকটা দিন কাজলের স্বামীর পরিচয়েই থাকতে হয় তাকে। শাহাদাত যেদিন চলে যাবে কাজল একই রিকশায় গিয়ে বাসে তুলে দিয়ে আসে। সেদিন রাতের বেলা কাজল তার ঘরের জানালায় দাঁড়িয়ে কাঁদে। কাজলের মা সেটা দেখে ফেলে। বুঝতে পারে তার মেয়ের কান্নার কারণ—এমনি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ নাটক ‘যুদ্ধ দিনের প্রেম’। মাসুম শাহরীয়ারের রচনা ও সাইদুর রহমান রাসেলের পরিচালনায় নাটকটিতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, শবনম ফারিয়া, মিলি বাশার, মাসুম বাশার, নিকুল কুমার মণ্ডল প্রমুখ। বিশেষ নাটক ‘যুদ্ধ দিনের প্রেম’ বাংলাভিশনে প্রচারিত হবে আগামী ২৬ মার্চ রাত ৯টা ৫ মিনিটে।
ভুলো না আমায়
১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট। মরিয়মের নতুন বিয়ে হয়েছে। স্বামী তার মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। স্বামীর জন্য রুমালে নকশা আঁকা, আচার বানানো আর অপেক্ষা করে করে সময় কাটে মরিয়মের। ময়মুনা বুড়ির কাছে খবর পেলেই পাশের গ্রামে ছুটে যায় কালাম ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে। কালাম ভাইও যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। সে মাঝে মাঝে মরিয়মের স্বামীর খোঁজখবর দেয়। গোপনে অসুস্থ মাকে দেখতে আসে কালাম। তবে কয়েকদিন হলো গ্রামে হানাদার প্রবেশ করেছে। রাতে শুয়ে শুয়ে স্বামীকে নিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখে মরিয়ম। গ্রামের মহিলারা মরিয়মের স্বামীর প্রতি ভালোবাসা নেই বলে কুত্সা রটায়। এমন অবস্থায় একদিন গভীর রাতে দরজায় ঠকঠক আওয়াজ। কালাম ভাই এসেছে। কালামের কাছে স্বামীর গল্প শুনতে ব্যাকুল মরিয়ম। মরিয়মের ব্যাকুলতা দেখে কালাম কিছু একটা বলতে চেয়েও বলতে পারে না। সকল কিছু উপেক্ষা করে মরিয়ম শুধু ভালোবাসার কথা, অনেক অপেক্ষার কথা, স্বামীর বীরত্বের কথাই বলতে থাকে। স্বাধীন দেশে সুখে বসবাসের আশায় বিভোর সে। আবারও দরজায় ঠকঠক আওয়াজ। বিপদ বুঝতে পেরে পিছনের দরজা দিয়ে পালায় কালাম। কালাম চলে গেলেও ফেলে রেখে যায় একটি পোটলা ও স্টেনগান। এরপরও স্বামীর জন্য রুমালে নকশা চলতে থাকে। এমন গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ নাটক ‘ভুলো না আমায়’। মুুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই নাটকটি রচনা করেছেন ড. সাইফুল জাহিদ এবং পরিচালনা করেছেন অঞ্জন আইচ। এতে অভিনয় করেছেন মনোজ, প্রভা, দিলারা জামান প্রমুখ। ‘ভুলো না আমায়’ নাটকটি আগামী ২৬ মার্চ রাত ৯টায় এনটিভিতে প্রচারিত হবে।
