না-ফেরার দেশে ভাওয়াইয়া গানের রাজা

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৯, ১৮:৪৯

ভাওয়াইয়া গানের শিল্পী শফিউল আলম রাজা পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন সাংবাদিকতা দিয়ে। কলমের মাধ্যমে সমাজকে অপরাধমুক্ত করার লড়াই চালাতে গিয়ে একসময় তিনি পান সেরা রিপোর্টারের পুরস্কারও। সাংবাদিকতার পাশাপাশি একসময় তিনি জড়িয়ে পড়েন সুরের মায়ায়। সুর ও ছন্দের স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছেন। আমৃত্যু ছিলেন এ সাধনার সঙ্গে। তিনি প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া গানের শিল্পী হিসেবে। দেশ-বিদেশে তৈরি হয় অসংখ্য ভক্ত। কিংবদন্তি আব্বাসউদ্দিন-আলীম চৌধুরীর হাত ধরে ভাওয়াই গানের যে প্রসার ঘটেছিল, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম মোস্তফা জামান আব্বাসী ও ফেরদৌসী রহমানের পর শফিউল আলম রাজাই এই ধারার গানকে ছড়িয়ে গেছেন সবখানে। তার মতো করে লোকসংগীতের বিরাট ভাণ্ডার ভাওয়াইয়া গানকে আর কেউ এভাবে তুলে ধরতে পারেননি। শ্রোতা-দর্শকের কাছে ‘ভাওয়াইয়া রাজা’, ‘ভাওয়াইয়া রাজকুমার’ ও ‘ভাওয়াইয়ার ফেরিওয়ালা’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। শফিউল আলম রাজা ভাওয়াইয়া গানের দল ও ভাওয়াইয়া স্কুলের পরিচালক এবং কলতান সাংস্কৃতিক একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিবার, সহকর্মী, ভক্ত-অনুরাগীদের শোকে ভাসিয়ে জীবনের ওপারে পাড়ি জমালেন গানের সেই প্রিয়মুখ। গত রবিবার মৃত্যুবরণ করেন তিনি। একজন সংগীতপ্রেমী মানুষ শফিউল আলম রাজার জন্ম কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই ছুটে বেড়াতেন দেশ-বিদেশে, বাংলা গানের শ্রোতাদের অন্তরে ঝরাতেন উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্য ও আবেগ ধারণ করা ভাওয়াইয়া গানের বৃষ্টি। নিজের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিয়েছিলেন তিনি ভাওয়াইয়া গানকে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর একটি টিভি অনুষ্ঠানে গাইতে গিয়ে তিনি ভাওয়াইয়া গান নিয়ে বলেছিলেন, ‘লোকসংগীতের অন্যতম ধারা ভাওয়াইয়া গান হলো ভাবের গান। তাছাড়া এই গানে বিরহ ভাবটা একটু বেশিই থাকে। বিরহের এই গান যে কারও মনকে উদাস করবেই।’ দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে তিনি আর কখনোই গাইবেন না ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’, ‘নতুন বউ, ‘রকমারি পিঠা কিংবা ‘সোনা বন্ধুর খবর’, ‘ও মোর কালা রে কালা’সহ জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া গানগুলো।