আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব হারিয়ে, জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে ব্যর্থ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন হতাশায় ভুগছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে উনি এখন জনগণকে টার্গেট করেছেন। প শুধু তাই নয়, হতাশাগ্রস্ত এই নেত্রী নির্জলা মিথ্যাচার করে চলেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে রাজধানীর গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা পর্যন্ত ১৭ পয়েন্টে ১৪ দলের মানববন্ধনে লাখো জনতার ঢল নামনোর টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশে চলমান সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে আগামী ১৯ জুন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী ১৪ দলের ১ ঘণ্টার মানববন্ধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্ধারণ করা ঢাকা মহানগরীর এই রুটগুলোসহ সারাদেশে শিক্ষক, চিকিত্সক, আইনজীবী সাংস্কৃতিকসহ সব পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মাধ্যমে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে বিএনপি-জামায়াত-শিবির চক্র গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গুপ্তহত্যাকারীদের রুখে দেওয়া হবে।
‘গুপ্তহত্যায় আওয়ামী লীগ জড়িত’ মর্মে সম্প্রতি খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, পবিত্র রমজান মাসে রোজাদার একজন ব্যক্তি এমন মিথ্যাচার করেন কীভাবে? এ প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শেখ হাসিনা শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনকের কন্যা। তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ হত্যা, ষড়যন্ত্র কিংবা ক্যু করে ক্ষমতায় আসেনি। আর তাই শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের ব্যাপারে কথা বলতে গেলে অশ্রাব্য ভাষা পরিহার করা উচিত। পরিবার-পরিজন নিয়ে কবি, সাহিত্যিক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের জনগণকে ১৪ দলের মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বিএনপি নেত্রীকে সন্ত্রাসী রানী ও মানসিক বিকারগ্রস্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে উনি নতুন কৌশল হিসেবে মিথ্যাচার করছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অশালীন ও অশোভন ভাষা ব্যবহার করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। আসলে এর মাধ্যমে উনি নিজের অপরাধকে আড়াল করতে চাচ্ছেন।
যৌথসভায় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন, এসএম কামাল হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, দফতর সম্পাদক এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ড. শাহাদাত্ হোসেন, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, আসলামুল হক আসলাম এমপি, হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপি, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু, শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, চিত্রনায়ক ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সচিবালয় রোডে আন্তর্জাতিক মানের ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি’ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে যান। এ সময় মন্ত্রী বলেন, এই ইনস্টিটিউট দেশের মানুষের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। এখানে চিকিত্সা দেওয়ার পাশাপাশি চিকিত্সকও তৈরি হবে। শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে মন্ত্রীকে জানান। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক কামরুল হাসান খান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
