রামকৃষ্ণ মিশনের ধর্মগুরুকে হত্যার হুমকিতে মোদীর উদ্বেগ

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৬, ২১:৩২
ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের ধর্মগুরুকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে।
 
গত বুধবার রামকৃষ্ণ মিশনের ধর্মগুরুকে হত্যার হুমকি দিয়ে ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর রামকৃষ্ণ মিশন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
 
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জঙ্গি টার্গেটে ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন। এ ঘটনায় বাংলাদেশে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তেমনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও উদ্বিগ্ন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ভারতীয় হাই কমিশনের মাধ্যমে ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আশ্বস্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিষয়টিকে রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করে আনন্দবাজারকে বলেন, সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার চক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ শুধু মুসলমানদের দেশ নয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানরাও এ দেশের নাগরিক। সরকার সর্বাত্মকভাবে তাদের পাশে রয়েছে।
 
ঢাকায় হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুহিতানন্দ প্রধানমন্ত্রী মোদী ও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে মিশনের ১৪টি কেন্দ্র রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই মিশনের সন্ন্যাসীদের ফোন করে বা চিঠি পাঠিয়ে ‘হত্যার’ হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
 
নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কিছু দিন আগেও মোদী কলকাতায় বেলুড় মঠে গিয়েছিলেন। তার দফতরে চিঠি পৌঁছনোর পর মোদী নিজে বিষয়টি নিয়ে তৎপর হন। দফতরের সহকারী সচিব ভাস্কর খুলবেকে বিষয়টি সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অবহিত করা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকেও।
 
ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের পক্ষ থেকে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান স্বামী ধ্রুবেশানন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকার হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। যা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার বলেছে, রিপোর্টে বলা হয়েছে জঙ্গি-দমনে শেখ হাসিনা সরকার সম্প্রতি সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে। এর ফলে মৌলবাদী ও জঙ্গিদের মনোবলে যথেষ্ট চিড় ধরেছে। এই কারণে সংখ্যালঘুদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা ও হুমকি দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর কৌশল নিয়েছে জঙ্গিরা।
 
গত দেড় মাসে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ধর্মস্থানে বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে। কয়েক জন পুরোহিত ও ধর্মগুরুকে চোরাগোপ্তা হামলায় হত্যাও করা হয়েছে। বুধবারও মাদারিপুরে এক সংখ্যালঘু কলেজ শিক্ষকের বাড়িতে ঢুকে তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখছে।
 
রিপোর্টে বলা হয়েছে, আইএস-এর নাম করে নাশকতা চালানো জেএমবি ও আনসারুল্লা জঙ্গিদের বহু নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। প্রতিবেশী দেশে জঙ্গি-বিরোধী এই অভিযান ভারতের নিরাপত্তার জন্যও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
 
সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি’র ক্ষোভ
এদিকে শুক্রবার হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি। তারা এ নিয়ে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাশ করতে চলেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে হামলার নিন্দা জানাতে পশ্চিমবঙ্গে সভা-সমাবেশ করার উদ্যোগ নিয়েছে।