লিবিয়ায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু: পরিবারে শোকের মাতম

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৬, ১৯:২৩
লিবিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ মঠবাড়িয়ার আরও দুইজন অবস্থা আশঙ্কাজনক।
 
বুধবার দিবাগত সন্ধ্যায় আল–জাওয়াইয়া শহরের অদূরে মুত্তত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শ্রমিকের মধ্যে মোস্তফা কামালের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামে । সে মৃত ওয়াযেদ হাওলাদারের ছেলে। ওপর নিহত বেল্লাল ও হানিফের বাড়ি পাথরঘাটা থানার কাঠালতলী বলে জানা গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধিন গুরুতর আহত শ্রমিক দুলাল খান  মঠবাড়িয়ার হারজি নলবুনিয়া গ্রামের মৃত আবদুস ছত্তার খানের ছেলে। আহত চুন্নু বিশ্বাস পাথরঘাটার আবদুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে।
 
জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় শ্রমিকরা ঘরে গ্যাসের চুলা জ্বালানোর সময়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে এবং কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বসবাসরত মোস্তফা, বেলাল হোসেন, চুন্নু মিয়া, মো. দুলাল খান এবং আবু হানিফের শরীর আগুনে ঝলসে যায়।
 
পরে অন্যান্য শ্রমিকরা এসে তাদের উদ্ধার করে আল-জাওয়াইয়া সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ত্রিপলি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. মোস্তফা, বেলাল হোসেন, এবং আবু হানিফ মারা যান।
 
নিহত মোস্তফার বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধা মা, স্ত্রী দুই সন্তানের আহাজারি।  মোস্তফার স্ত্রী খাদিজা আক্তার (৩০) ঘটনার রাত থেকে অবিরত কাঁদছেন। দুই সন্তান জাহিদ হাসান (১১) ও  চার বছরের মাহিমও মায়ের সাথে কাঁদছে।
 
খাদিজা আক্তার বলেন, ‘আমার ( স্বামী) সঙ্গে গত শুক্রবার  মোবাইলে শেষ কথা হয়েছে। জানাইছিল সে ভালই আছে। গত বুধবার রাতে কে যেন মোবাইল দিয়া জানাইছে আমার স্বামী গ্যাসের আগুনে পুইড়া মারা গেছে। আল্লা এ তোমার কেমন বিচার । এখন মাছুম দুই সন্তান নিয়া আমি কেমনে থাকবো ।,
 
মোস্তফার বড় ভাই কৃষক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, মোস্তফাকে গত দেড় বছর আগে গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে ধার দেনা ও জমি বিক্রি করে লিবিয়ায় পাঠাই। সেখানে সে শ্রমিকের কাজ করে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছিল। কিছু দেনা পরিশোধও করছিল ।
 
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লিবিয়্য়া কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু খবর  শুনেছি । সেখানে মঠবাড়িয়ার এক শ্রমিকও নিহত হয়েছে।