ডাক্তার নাই, চিকিত্সা নাই, সে কেন্দ্র থাইক্যা লাভ কি?’ এ কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান, গোলাম মওলা ও সতীশ চন্দ্র। ৯০ দশকে বল্লভেরখাষ ইউনিয়নে স্থাপিত হয় মাদারগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। জনবল কাঠামো অনুযায়ী এখানে একজন এমবিবিএস ডাক্তার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন এমএলএসএসের পদ রয়েছে। শুরুতে এসব পদে ডাক্তার-কর্মচারী থাকলেও গত একযুগ ধরে একটি ছাড়া সকল পদ শূন্য।
নাগেশ্বরীতে একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে চলছে মাদারগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। পদ থাকলেও ডাক্তার, কর্মচারী নেই দীর্ঘদিন। প্রত্যাশিত স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না রোগীরা।
দুধকুমর, ফুলকুমর, ব্রহ্মপুত্র, গংগাধর, শংকোষ নদী বিচ্ছিন্ন উপজেলার কেদার, কচাকাটা, বল্লভেরখাষ, নারায়ণপুর ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় ৯০ দশকে বল্লভেরখাষ ইউনিয়নে স্থাপিত হয় মাদারগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। জনবল কাঠামো অনুযায়ী এখানে একজন এমবিবিএস ডাক্তার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন এমএলএসএসের পদ রয়েছে। শুরুতে এসব পদে ডাক্তার-কর্মচারী থাকলেও গত একযুগ ধরে একটি ছাড়া সকল পদ শূন্য। একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার হাফিজুর রহমান সপ্তাহে তিন দিন সেখানে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকেন। ফলে চরাঞ্চলীয় এ বৃহত্ এলাকার মানুষের চিকিত্সা সেবায় একমাত্র ভরসা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। সেখানে চিকিত্সা নিতে আসা আরিফা বেগম, আয়নাল হক, কুলসুম বেগম, কোরবান আলী জানান, সপ্তাহে তিন দিন স্বাস্থ্য কেন্দ্র খুললেও ডাক্তার না থাকায় আমরা কোনো চিকিত্সা পাই না। যিনি আসেন তিনিও কিছুক্ষণ থেকে চলে যান।
স্থানীয় মোখলেছুর রহমান, গোলাম মওলা, সতীশ চন্দ্র বলেন, ‘যে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো ডাক্তার নাই, চিকিত্সা নাই, সে কেন্দ্র থাইক্যা লাভ কি?’
উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, সপ্তাহে ছয় দিন ডিউটি থাকলেও ডে অফের কারণে তিনদিন আসি। প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিত্সা সেবা নিতে আসে। একার পক্ষে এত রোগীর চাপ সামলানো সম্ভব না। বার বার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তা জিআর মোকছেদুর রহমান বলেন, উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় ডাক্তার-কর্মচারীরা সেখানে থাকতে চায় না। পূর্বে যারা এসেছিল তারা অল্প কিছুদিন থেকে বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তারপর থেকে এখানে একটি ছাড়া সকল পদ শূন্য। কর্তৃপক্ষকে অনেকবার লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
