বাজেট বাস্তবায়নে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ সিপিডির

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৬, ২০:১৯
বাজেট বাস্তবায়নে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টর ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সংসদীয় কমিটিকে আরো সম্পৃক্ত করা, প্রতি প্রান্তিকে বাজেট বাস্তবায়নে তদারকিসহ ফলাফল ভিত্তিক বাজেট মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রচলনের আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি।
 
রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত সংলাপে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম সাইদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আবদুর  রাজ্জাক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডি নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আগে বাজেট উচ্চাভিলাষী, বড় ইত্যাদি বলে সিডিপি ব্যাপক সমালোচনা করতো। এখন সিপিডির সমালোচনা কমেছে। কিছু ক্ষেত্রে এখন সরকারকে প্রশংসাও করছে সিপিডি।
 
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশ উন্নয়নের একটি রোল মডেল। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়, ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্রমুক্ত এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে সামিল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশ এমডিজির সবকটি লক্ষ্য অর্জনে সফলতা দেখিয়েছে।
 
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রীর এই কথার অর্থ হলো ২০৪১ সালের আগে দেশে আর কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। বাংলাদেশ যে গতিতে এগুচ্ছে তাতে ডাবল ডিজিটে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা উচিত ছিলো। বর্তমানে দেশে বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে গেছে। অন্যদিকে সরকারি বিনিয়োগও সঠিক ভাবে হচ্ছে না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক চলে গেলো। এখন তিন বিলিয়ন ডলারের পদ্মা সেতু হয়তো ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে। যেখানে চার লেনের সড়ক বানাতে প্রতি কি.মি. চীনে ১৩ কোটি আর ভারতে ১১ কোটি টাকা ব্যয় হয় সেখানে বাংলাদেশে ব্যয় হয় ৫৫ কোটি টাকা। এ ধরনের উন্নয়ন দিয়ে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে কতটুকু লাভবান হবে সে প্রশ্ন করেন তিনি। তিনি বলেন, মানবাধিকার আর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে না।
 
আমির খসরুর বক্তব্যের বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি কোন দলই না। তারা বিরোধী দলে নেই। সরকারি কাজে তাদের কোন ভূমিকা নেই। তিনি বলেন, যেহেতু দেশে জ্বালানী, বন্দর নির্মাণসহ মেগা প্রকল্পে বেসরকারি খাত বিনিয়োগ করে না, তাই সরকার এইসব খাতে বিনিয়োগ করে। আর চীনে জমির মালিক সরকার হওয়ার কারণে সেখানে প্রকল্প ব্যয়ও অনেক কম।
 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের এখন চ্যালেঞ্জ হলো বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু আমাদের মাঝেই নয়, উন্নয়ন সহযোগীদের মাঝেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পে সম্মতি দিতে এডিবি সময় নিয়েছে ৭ বছর। একই ভাবে বিশ্বব্যাংকও প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব করার অভিযোগ করেন তিনি।