জন্ম থেকেই দুই পা অচল। কাজ ও চলাচলের জন্য দুই হাতই ভরসা। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও এখন তিনি আর কারো গলগ্রহ নন। সচল দুহাতে পনের বছর বয়সেই তুলে নিয়েছিলেন মোটরসাইকেল মেরামতের যন্ত্রপাতি। অন্যের গ্যারেজে শ্রমিক হিসেবে থেকে দুই বছর কাজ শিখে নিজেই আলাদাভাবে দিয়েছেন একটি মোটরসাইকেল মেরামতের গ্যারেজ। এভাবেই হার না মানা লড়াইয়ে এগিয়ে চলেছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামুডাঙ্গা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী লেলিন মিয়া (২৬)। উপজেলা শহরের মাদারগঞ্জ রোডের পশ্চিমপাড়া এলাকায় অবস্থিত তার গ্যারেজটি।
লেলিন মিয়ার বাবা আমছার আলী পেশায় দিনমজুর। তিন ভাইয়ের মধ্যে লেলিন সবার ছোট। এখনও বিয়ে করেননি। নিজের গ্যারেজে এখন তার আপন বড় ভাই ফিরোজ মিয়া-সহ আরো ৪/৫ জন কাজ করেন। বর্তমানে মাসিক আয় পনের হাজার টাকার মতো।
তার বাবা আমছার আলী বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় লেলিন ছোটবেলা থেকে কোনো কাজ করতে পারতো না। তার ভবিষ্যত্ নিয়ে আমরা চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু এখন আর চিন্তা করতে হয় না। বরং তার আয়ে আমাদের সংসার সুন্দরভাবে চলছে।
বড় ভাই ফিরোজ মিয়া বলেন, এক সময় ভেবেছিলাম ছোট ভাইকে সারাজীবন ভরণ-পোষণ দিতে হবে। এখন তার গ্যারেজেই আমি কাজ করছি। ওকে নিয়ে গর্ব হয়।
নিজের মোটরসাইকেল মেরামত করতে আসা উপজেলা সদরের জয়েনপুরের এনজিও কর্মী সামিয়ুর রহমান শামীম বলেন, তিনি প্রতিবন্ধী হলেও কাজে অনেক দক্ষ। মেরামত খরচও কম নেন।
লেলিন মিয়া বলেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়। তার প্রমাণ আমি নিজে।
