নালিতাবাড়ীতে হরহামেশাই আবাদি জমি কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে রাস্তা। ফলে কমে আসছে আবাদি জমির পরিমাণ আর কৃষক হারাচ্ছে তাদের পৈতৃক জমি। এ অবস্থায় নালিতাবাড়ীর বারমারী-টেংরাখালী বাস্তবায়নাধীন সড়ক প্রকল্পের রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য আশ-পাশের কৃষকদের আবাদী জমি গর্ত করে মাটি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শেরপুর সওজ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টেংরাখালী থেকে বারমারী পর্যন্ত ১৩.৯ কি.মি সড়ক ৭.৫ মিটারে প্রশস্তকরণের লক্ষ্যে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে একনেকের বৈঠকে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। জেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্রে শতকরা ২০ ভাগ হ্রাসকৃত মূল্যে দুটি প্যাকেজের কাজ পায় মেসার্স রিজভী কনস্ট্রাকশন ও রানা বিল্ডার্স নামে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি। এরপর গেল মে মাসের শেষ দিকে রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করে। মাটি ভরাট করে রাস্তা প্রশস্ত করতে গিয়ে আশ-পাশের আবাদি জমি থেকে স্কেভেটর লাগিয়ে গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি নেয়া শুরু করে ঠিকাদার। কৃষকরা প্রতিবাদ জানালে গভীর গর্তের পরিবর্তে দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত গভীর করে জমির ‘টপ সয়েল’ কেটে নিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার। ফলে রাস্তার আশ-পাশের জমির মালিকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এতে ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা কৃষকের অনুমতি নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
আন্দারুপাড়া গ্রামের কৃষক লেনুস সাংমা জানান, রাস্তা সংলগ্ন তার মাত্র চার কাঠা আবাদি জমি। এ থেকে প্রায় দুই কাঠা জমির মাটি খুঁড়ে নেয়া হয়েছে। ফলে এ বছর তিনি কোনো আবাদই করতে পারেননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফ ইকবাল জানান, আবাদি জমির উপরিভাগের ১৫ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত মাটি বেশি উর্বর হয়। ফলে উপরিভাগের মাটি কেটে নিলে উর্বরা শক্তি কমে যায় এবং ফসলের ক্ষতি হয়। তাই আবাদি জমির ক্ষতি করে এমন ধরনের নির্মাণ করা ঠিক নয়।
ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। তবে দায়িত্বে থাকা শেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বায়েজিদ বাঙালী জানান, মূলত সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা থেকেই মাটি নেয়ার কথা। আর কৃষকদের জমি থেকে নিয়ে থাকলে সমন্বয় করতে হবে।
