নগরীর প্রায় অর্ধশত ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে মানুষ বসবাস করছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে এক ডজনের বেশি ভবনকে সিটি কর্পোরেশন ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে অর্ধ যুগ পূর্বে চিহ্নিত করে। তবে ‘নগর ভবন’ কর্তৃপক্ষ অদ্যবধি তা ভাঙতে পারেনি। ২০১০ সালে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হলেও নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে এসব ভবনের বাসিন্দাদের। যে কোনো সময় অতিবৃষ্টিতে ভবন ধসে পড়া ছাড়াও মৃদু ভূমিকম্পে বড় দুর্ঘটনার আশংকা করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।
নগরীতে দেড়শ বছরের পুরনো ভবন রয়েছে ১৫টি। ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে: সদর রোডের ব্রাহ্মসমাজের বাড়ি, শহীদ আলমগীর ছাত্রাবাস, বিএম কলেজের ছাত্রী হোস্টেল দেবেন্দ্র ভবন, মহিলা কলেজের গোড়াচাঁদ রোড ছাত্রী নিবাসের (কবি সুফিয়া কামাল হল) মূল ভবন, জেলেবাড়ির পোল সংলগ্ন আইনুদ্দিন হাওলাদারের বাড়ি, ফজলুল হক এভিনিউ এলাকার হোটেল বাহাদুর ভবন ও বগুড়া রোডের মহালয় নিবাস, ওবায়েদ মঞ্জিল। বটতলা হোমিওপ্যাথিক কলেজ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবন অবশ্য হাত বদলের সুবাদে ভেঙে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। বাকি ভবনগুলোতে বসবাসকারী ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিতদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, নগরীর সদর রোডের শহীদ মিনারের উল্টোদিকে ব্রাহ্মসমাজের বাড়িটির বয়স দেড়শ বছর। সেখানে একটি সঙ্গীত বিদ্যালয় চলছে। মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এ ভবনের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা। কাউনিয়া প্রধান সড়কের কাদের চৌধুরী স্কুলের বিপরীত পাশের বাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে একাধিক পরিবার। এ ভবনগুলোর অধিকাংশেরই মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। অর্পিত সম্পতিতে গড়ে ওঠা কিংবা বহু বছর আগে ফেলে রেখে দেশান্তর হওয়া মানুষের বাড়িঘর। গোড়া চাঁদ দাস রোডের ঝুঁকিপূর্ণ যে ভবনে মহিলা কলেজের ছাত্রীরা বসবাস করছে সেই ভবনটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি বলে স্থানীয় প্রবীণরা জানান। ইংরেজ জমিদার ব্রাউন সাহেব থাকতেন ঐ বাড়িতে। কালক্রমে ভবনসহ জমির মালিকানা চলে আসে মহিলা কলেজের হাতে। তারাই জোড়াতালি দিয়ে জরাজীর্ণ ভবনে ছাত্রীদের হোস্টেল করে নাম দিয়েছে কবি সুফিয়া কামাল হল। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে ব্রিটিশ আমলে তৈরি ভবনগুলো বহুতল না হলেও নতুন চারতলা ভবন সমান উঁচু করে তৈরি করা হয়েছিল দ্বিতল ভবন। ফলে মৃদু ভূমিকম্পনে ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন হেলে পড়া কিংবা ধসে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাথে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানান, ২০১০ সালের জুলাই মাসে নগর ভবনের পর্যবেক্ষক দল নগরীর প্রায় অর্ধ-শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অনুসন্ধান চালিয়ে ১২টিকে ভূমিকম্প ঝুঁকিতে থাকা ও বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী চিহ্নিত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এর মধ্যে কাউনিয়া সিরাজ মহল, ঈশ্বর বসু রোডের সৈয়দ মঞ্জিল, হাসপাতাল রোডের মান্নান মৃধার বাড়ি, কালুশাহ সড়কে অবস্থিত জালাল আহমেদ ভবন ও নবগ্রাম রোডের হাতেম আলী কলেজের আলমগীর ছাত্রাবাসের পুরাতন ভবন, মেডিক্যাল কলেজ লেনের ক্ষণিকা ও বিএম কলেজের সুরেন্দ্র ভবন। চিহ্নিত করা ভবনগুলোর মধ্যে শুধু সদর রোডের সমবায় ভবনটি সমিতির পক্ষ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। বটতলার ভবনটিও মালিকানা হস্তান্তরের কারণে অপসারিত হয়েছে। বাকি ভবনগুলো দাঁড়িয়ে আছে।
