দীর্ঘ লাইন, আগাম টিকিট পাচ্ছে না বহু মানুষ

আপডেট : ২১ জুন ২০১৬, ০০:৪৯
ঈদের ছুটিতে প্রতি বছরই বাস বা রেলের টিকিট নিয়ে হাহাকার তৈরি হওয়ার কথা সবারই জানা। তবে এবার ঈদের বেশ আগেই সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় টিকিট কেনার কাজটি সহজ হবে বলে আশা করেছিলেন অনেকেই। তবে বাস্তবতা আগের মতোই। গতকাল সেহির খেয়ে অনেকে কাউন্টারে গিয়ে দেখেন তাদের অনেক লম্বা লাইনের পেছনে দাঁড়াতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও কাঙ্খিত টিকিট পায়নি অগণিত মানুষ। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, কোনো কোনো পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
 
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বাসের আগাম টিকিট বিক্রি। সকাল ৭টা থেকে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৬০টিরও বেশি রুটের এ টিকিট বিক্রি হয়। অপর দিকে  রেল ও বিআরটিসির বাসের আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হবে ২৬ জুন এবং রেলপথে ২২ জনু থেকে।
 
তবে বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করলে সমিতির পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  তিনি আরো বলেন, ঈদযাত্রায় ৩০ জুন ও আগামী ৪ জুলাইয়ের টিকিটের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। এবারের ঈদে সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকেই ৬ জুলাইকে সম্ভাব্য ঈদের দিন ধরে ৩০ জুন শেষ কার্যদিবস হিসেবে বাড়ি যাওয়ার টিকেট চাইছেন। এছাড়া আগাম টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে রাস্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতায় এবারের ঈদ যাত্রা ভালো হবে বলে আশা করেন তিনি।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, বগুড়াগামী যাত্রী ছানোয়ার হোসেন। গতকাল সকাল ৬টায় গাবতলী বাস টার্মিনালের হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। ৭টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা। এক ঘণ্টা পিছিয়ে বিক্রি শুরু হয় ৮টায়। তবে এক ঘন্টা  আগে কাউন্টারে এলেও       লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে অনেকের পেছনে। তবে কিছু কিছু কাউন্টার অনেকটাই ফাঁকা থাকায় সহজেই টিকিট পেয়েছেন অনেকে।  ছানোয়ার বলেন,  ৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পর টিকিট পেয়েছি। তবে ভোগান্তি কিছুটা কমাতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে তাকে। ৩৫০ টাকার ভাড়া নেয়া হয়েছে ৩৮০ টাকা।  কল্যাণপুর ও শ্যামলী কাউন্টার এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৬০টির বেশি রুটে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম দিনে এসব কাউন্টারে যাত্রীদের বেশি চাহিদা ছিল ১ জুলাই থেকে ৩ জুলাইয়ের টিকিটের।
 
একই ভাবে শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ, ঈগল, সাকুরা, এস আলমসহ বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারের সামনে টিকিট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন। তবে এসব কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা ও টিকিট বিক্রির বিজ্ঞপ্তিও টাঙানো ছিল।
 
এসআর ট্রাভেলসের ম্যানেজার আমিন নবী  জানান, টিকিটের দাম বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত। বগুড়া ৩৮০ টাকা, নওগাঁ ৪৭০, গাইবান্ধা ৫২০, রংপুর ৫৯০, নীলফামারি ৬৮০ টাকা। এর বেশি নেয়া হচ্ছে না। তবে যারা বগুড়ার টিকিট পাচ্ছেন না কিংবা ভালো মানের টিকিট চাচ্ছেন তাদেরকে একই রুটের অন্য জেলার টিকিট দেয়া হচ্ছে।  অপর দিকে কোনো কোনো কাউন্টারে ২, ৩, ৪ এবং ৫ জুলাইয়ের টিকিট নেই বলে টিকিট প্রত্যাশীদের জানিয়ে দেয়।  চট্টগ্রাম, কক্সবাজার সিলেট, বান্দরবান, নাজিরহাট ও কয়েকটি স্থানের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে বলে এস আলম পরিবহনের কাউন্টারম্যান নরেশ রায় জানান। অপরদিকে কমলাপুর হানিফ কাউন্টারের রতন মিয়া টেলিফোনে বলেন, আমাদের কাউন্টারে কোনো ভিড় নেই। যাত্রীরা আসছে আর টিকিট নিয়ে যাচ্ছে।
 
তিনি আরো জানান, এবার বেশিরভাগ পরিবহনের টিকিট অনলাইনে দেয়া আছে। সেখান থেকে টিকিটগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। এ কারণে কাউন্টারে আসা লোকজন তাদের চাহিদা মতো টিকিট পাচ্ছেন না।