সাঘাটায় যমুনা ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলী জমি বিলীন

আপডেট : ২১ জুন ২০১৬, ১৮:০১
যমুনা ভাঙনে এক সপ্তাহে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কানাইপাড়া ও গোবিন্দপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, প্রায় ১৫০ বিঘা পাটক্ষেত ও আবাদি জমি, গোবিন্দপুর ঈদগাহ মাঠ, অসংখ্য গাছপালা বিলীন হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে পাঁচ শতাধিক মানুষ। তারা বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
 
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় সুত্র জানায়, বর্তমানে যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন দেখা দেয়। উপরন্ত দফায় দফায় বর্ষণে ভাঙন আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ভাঙনের কারণে গত এক সপ্তাহে হলদিয়া ইউনিয়নের কানাইপাড়া ও গোবিন্দপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, প্রায় ১৫০ বিঘা পাটক্ষেত ও আবাদি জমি, অসংখ্য গাছপালা বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া গৃহহীন হয়ে পড়েছে পাঁচ শতাধিক মানুষ। তারা বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
 
মঙ্গলবার দুপুরে কানাইপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেল ভাঙনের ভয়াবহ দৃশ্য। কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ উঠতি পাট কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন।
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ. ক. ম. রুহুল আমীন বলেন, নদী বেষ্টিত হলদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল পাট চাষের জন্য উপযোগী। জেলার বেশিরভাগ পাট ওইসব চরাঞ্চলে উৎপাদন হয়। এ সব বিষয়ে হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী বলেন, দৈনিক গড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে অল্পদিনের মধ্যে গোটা কানাইপাড়া গ্রাম নিশ্চিহ্ন হবে।
 
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, হলদিয়া ইউনিয়নে ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছে। এ ছাড়া সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, ভরতখালী, ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে ভাঙ্গন রোধে ২৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে ওই এলাকায় ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব  হবে।