নান্দাইলে সেতু নির্মাণে ধীরগতি বিকল্প সড়ক না থাকায় দুর্ভোগ

আপডেট : ২২ জুন ২০১৬, ০৩:০৯
নান্দাইল উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ নান্দাইল-সুরাটি বাজার সড়কে সেতু নির্মাণ চলছে ধীরগতিতে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। 
 
উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের সুরাটি বাজারের প্রবেশ মুখে সেতুটির অবস্থান। নান্দাইল উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলসহ কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ পথটি ব্যবহার করেন।
 
স্থানীয় লোকজন সেতুটিকে ‘ডিডুর পুল’ বলে জানান। বাতুয়াদী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. রুহুল আমীন, আমির উদ্দিন ও আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, খালটির ওপর পুরাতন সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে শত শত মানুষের ভোগান্তি শুরু হয়েছে। ময়মনসিংহের অয়ন এণ্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি  প্রতিষ্ঠান এখানে কাজ করছে। নির্মাণাধীন সেতুর পাশে মানুষজনের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। খালের ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। গ্রামের কৃষকরা তাদের পণ্য নিয়ে বাজারে যেতে পারছেন না। রোগীদের কাছের হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঘুরতি পথে চলাচল করতে গিয়ে যাতায়াত খাতে তিনগুণ বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী দুটি উপজেলার লোকজনকে। 
 
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণ কাজটি করছে ময়মনসিংহের অয়ন এণ্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিকল্প সড়ক তৈরি না করে খালের দুই পাশে বাঁধ দিয়ে পানি সেচে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু ভারি বৃষ্টির কারণে বাঁধের পশ্চিম দিকের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পানের অনেক বরজ ডুবে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিলে লোকজন পশ্চিম দিকের বাঁধটি কেটে দেয়। ফলে পূর্ব দিকের বাঁধের ওপর দিয়ে পানি চলাচল করলে সেতু এলাকার দুই পাশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত দশদিন ধরে এ অবস্থা চলছে।
 
যোগাযোগ ঠিক রাখার জন্যে এলাকার লোকজন বাঁশের মাচা তৈরি করে তার ওপর দিয়ে চলাচল করছে। কিন্তু সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ। অয়ন এণ্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাজ হচ্ছে এবং নির্মাণ কাজটি যথাসময়ে শেষ করা হবে।